জাগ্রত বশীকরণ মন্ত্র সাধকদের জন্য - সর্ব বশীকরণের উপায়
সতর্কতা: সকল মন্ত্র-তন্ত্র ভালো কাজে ব্যবহার করুন। খারাপ কাজে মন্ত্র-তন্ত্রের ব্যবহার নিজের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ভালো গুরু ধরুন এবং তার অনুমতি নিয়ে কাজ করুন। গণক্কার কখনোই খারাপ কাজে অনুমতি দেয় না এবং এই বিষয়ে কোন দায় গ্রহণ করে না।
বশীকরণ মন্ত্র
বিঃ দ্রঃ- দেবী—বাণী। কাল—বসন্ত (দিবার প্রথম দশ দণ্ড)। দিক–পূর্বমুখ। আসন—স্বস্তিকাসন। মুদ্রা—পাশমুদ্রা। তত্ত্ব—বহ্নিতত্ত্ব। মন্ত্র শেষে যুক্ত—স্বাহা। যথাবিধি ন্যাস, প্রাণায়াম ভূতশুদ্ধি প্রভৃতি সমাপ্ত করে সাধ্যমত উপচারে দেবী বাণীর পূজা করে কর্ম করাই শাস্ত্র সম্মত।
সাধারণতঃ কোনও স্ত্রী বা পুরুষকে বশ করার জন্য বশীকরণ প্রয়ােগ হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে বেশ্যা, শত্রু, রাজা, রাজকর্মচারী, প্রভু প্রভৃতিকেও বশ করার জন্য এটি প্রয়ােগ করা হয়। এই বশীকরণ প্রয়ােগ সিদ্ধি নিম্নলিখিতভাবে করতে হবে। যথা-
ওঁ অস্য শ্রীবামদেব মন্ত্রস্য সম্মােহন ঋষিঃ।
গায়ত্রীচ্ছন্দঃ, শ্রীকামদেব দেবতা অমুকবশ্যার্থে জপে বিনিয়ােগ।
উপরােক্ত মন্ত্রে যেখানে অমুক শব্দ আছে, সেখানে অভিলষিত স্ত্রী বা পুরুষের নাম উচ্চারণ করবেন। তারপর নিম্ন মন্ত্রে ষড়ঙ্গনাস করবেন। যথা-
অঙ্গন্যাস-
কাং হৃদয়ায় নমঃ,
কীং শিরসে স্বাহা,
কৃং শিখায়ৈ বষট,
কৈং কবচায় হু।
কৌং নেত্রায় বৌষট।
কঃ কামদেব দেবতা অস্ত্রায় ফট।”
করন্যাস—
কাং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ,
কীং তর্জনীভ্যাং স্বাহা,
কূং মধ্যমাভ্যাং বষট,
কৈং অনামিকাভ্যাং হু;
কৌং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট;
কঃ কামদেব দেবতা অস্ত্রায় ফট।”
এবার ধ্যান করবেন, যথা –
ধ্যান জপারুণং রক্তবিভূষণাঢ্যং চ
মীনধ্বজং চারুকৃতাঙ্গরাগম্।
করাম্বুজৈরংকুশমিক্ষু চাপং,
পুষ্পস্ত্রপাশৌ দধতং নমামিঃ ।।
মীনধ্বজং চারুকৃতাঙ্গরাগম্।
করাম্বুজৈরংকুশমিক্ষু চাপং,
পুষ্পস্ত্রপাশৌ দধতং নমামিঃ ।।
এইরূপে ধ্যান করে নিম্নলিখিত মন্ত্র ৫০০০ (পাঁচ হাজার) সংখ্যা জপ করবেন।
মন্ত্র—
ওঁ কামদেবায় সর্বজন প্রিয়ায় সর্বজন সম্মােহনায়
জ্বল জ্বল প্রজ্জ্বল প্রজ্বল সর্বজনস্য হৃদয়ং মম বশ্যং কুরু কুরু স্বাহা।
জপ শেষ করে লাল রক্ত করবী পুষ্পে চামেলী আতর মাখিয়ে দশাংশ অর্থাৎ ৫০০ শত হােম করবেন। অতঃপর বটুকগণের প্রসন্নতা লাভের জন্য কমপক্ষে তিনটি বালক ভােজন করাবে এবং উপরােক্ত মন্ত্র দ্বারা চন্দনকে ১০৮ বার অভিমন্ত্রিত করে , সেই তিলক বালকদের কপালে দিবে । এবার যে ব্যক্তিকে বশ করতে হবে , তার কথা মনে মনে চিন্তা করে বালকের সঙ্গে কথাবার্তা বলবে । মনে করতে হবে , যেন অভিলষিত ব্যক্তির সঙ্গেই কথা বলছি , তাহলেই সেই ব্যক্তি অবশ্য বশীভূত হবে , এতে সন্দেহ নাই।