আঁচিল প্রসঙ্গে কিছু কথা ও চিকিৎসা করনীয়
এক্ষেত্রে ইলেকট্রোকটারী করে আঁচিল নির্মূল করা যায়। চর্মরােগ বিশেষজ্ঞরা এই কাজটি করে থাকেন। মুখে আঁচিল হলেও এই পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেয়া যায়। এটি একটি ব্যথা মুক্ত পদ্ধতি।
আঁচিল সম্পর্কে বিস্তারিত
আঁচিল সম্বন্ধে সাধারণ মনে একটি ভুল ধারণা আছে। তা হচ্ছে যে, এর কোন চিকিৎসা (এলােপ্যাথিক) নেই এবং এটি এলােপ্যাথিক ছাড়া অন্যসব চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভাল হয়। এ ধারণাটি যারা পােষণ করেন তাদের সঠিক তথ্য জানিয়ে দেয়ার জন্যই এ লেখা। আঁচিল বলতে সাধারণ মানুষ যা বােঝেন তার বিভিন্ন প্রকারভেদ আছে। তবে প্রকারভেদ যাই হােক না কেন, এটি কখনও কখনও নিজে থেকেই ভাল হয়ে যায়। আর নিজে থেকে ভাল হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে এলাপ্যাথ চিকিৎসা নেয়া থেকে বিরত থাকেন। এই ভুল ধারণা থেকে চিকিৎসা না নেয়ার কারণে কখনও কখনও এমন ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়ায় যে অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা তাে দূরের কথা এলােপ্যাথ চিকিৎসকদেরই হিমশিম খেতে হয় এবং কখনও কখনও চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আঁচিলের একটি প্রকারভেদকে ইংরেজীতে বলা হয় মােলাস্কাম কনটাজিওসাম। নাম থেকেই বােঝা যায় যে এটি একটি ছোঁয়াচে অসুখ। এটি সংখ্যায় সাধারণত একটি বা কখনও কখনও অনেক হতে পারে। এটি দেখতে গােলাকার; দু থেকে পাঁচ মি.মি. ব্যাসার্ধের; সাদা অথবা গােলাপী রং বিশিষ্ট; শক্ত এবং মােমের মতাে স্বচ্ছ আবরণযুক্ত এবং মাঝখানে সুন্দর একটি গর্ত থাকে। আক্রান্ত স্থান সাধারণত মুখ, হাত, তলপেট এবং যৌনাঙ্গ। তবে ঠোট, জিহবা, এমনকি মুখের ভিতরও হয়ে থাকে। এ অসুখটি ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। ভাইরাসটি পক্স ভাইরাস গ্রুপের। স্কুলে যায় এমন বয়সের বাচ্চাদের অসুখটি বেশি দেখা যায়। শরীরে রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা কম থাকলে এ অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে যে এটি নিজে থেকেই বিনা ওষুধ প্রয়ােগে ভাল হয়ে যায়। সংখ্যা খুব বেশি হলে শরীরের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তােলার জন্য গ্রাইসােফুলভিন নামক ওষুধটি নির্দিষ্ট পরিমাণে খাওয়ানাে যেতে পারে যা কিনা একজন চিকিৎসকের অধীনে হওয়াই মঙ্গল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সারিয়ে তােলার জন্য অনেক ধরনের সার্জিক্যাল ব্যবস্থা নেয়া যায়। যেমন কিউরেট করা বা চেছে ভিতরের জীবাণু বের করে ফেলা। আঁচিলের আরেকটি প্রকারভেদকে ইংরেজীতে বলে ওয়ার্টস বা ভেরুকা। এটিও একটি ছোঁয়াচে অসুখ এবং সংখ্যায় সাধারণত একটি বা কখনও কখনও অনেক হতে পারে। দেখতে এটি গােলাকার। তবে বাহিরের আবরণটি এক্ষেত্রে অস্বচ্ছ (Rough)। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে এর আকৃতি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণত বাচ্চাদের এটি হয়ে থাকে এবং সংখ্যায় অনেক হয়। তবে বড়দের ক্ষেত্রে যখন হয় তখন সংখ্যায় দু'টি বা তিনটির মতাে হয়। আক্রান্ত স্থান সাধারণত হাত। তবে এর বিপজ্জনক দিক হচ্ছে শরীরের যে কোন স্থানে হয়ে থাকে। নাকে, কান বা মুখের ভিতর যখন হয় তখন চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব জটিল হয়ে যায়। হাতে অসুখটি থাকার পর, যাদের দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস থাকে তাদেরই জিহ্বাতে হয়ে থাকে। তেমনিভাবে নাক ও কানের ভিতরও হয়ে থাকে। শুরুতে অবশ্য দেখতে এগুলাে আলপিনের মাথার সমান স্বচ্ছ আবরণযুক্ত হয়ে থাকে। আস্তে আস্তে যত সময় যেতে থাকে উপরের আবরণটি একটু অস্বচ্ছ (Rough) হয়ে যায়। এ ধরনের আঁচিলটিও ভাইরাসজনিত অসুখ। ভাইরাসটির নাম হচ্ছে হিউম্যান পেপিলােমা ভাইরাস। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, যেমন-চোখের পাতা, মাথা, মুখ, হাত পা, শরীর এমন কি যৌন অঙ্গেও হয়ে থাকে। যৌনাঙ্গে অসুখটি খুব ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করে। যদি প্রথমেই এর চিকিৎসা ব্যবস্থা করানাে না হয় তবে পরবর্তীতে ক্রায়ােসার্জারি ছাড়া এর চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। যৌনাঙ্গ অনেক দিন আক্রান্ত থাকাতে অনেক সময় অনেক সময় ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। তখন যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। এ অসুখটিও বিনা চিকিৎসায় ভাল হয়ে যেতে পারে। তবে মলাস্কাম কনটাজিওসাম যত তাড়াতাড়ি নিজে থেকে ভাল হয়ে যায় এ ক্ষেত্রে তা হয় না। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিতর অতি দ্রুত সারিয়ে তােলা যায় এমন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থার নাম হচ্ছে ইলেক্ট্রোডেসিকেশন। তবে এ জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়ােজন হয়।