ক্রিম মেখে শরীরের রং ফর্সা করা যায় কি?

কেউ কেউ গায়ের রং ফর্সা করার জন্য তথাকথিত রং ফর্সা করার ক্রিম মেখে থাকেন। এটা কিংবা অন্য কোনাে ব্যবহার করে গায়ের রং ফর্সা করা যায় কি? 

প্রকৃতপক্ষে রং ফর্সাকরার কোন ক্রীম নেই। বাজারে রং ফর্সা করার নামে যেসব ক্রীম পাওয়া যায় সেগুলাে ব্যবহারে সাময়িকভাবে ত্বক ফর্সা হলেও তা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জন্য হয়ে থাকে। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়। এক পর্যায়ে ত্বকে পানি লাগালে জ্বালা করে। রং কখনােই ফর্সা করা যায় না। এটা জন্মগত ব্যাপার। তবে সূর্যের আলাে এড়িয়ে চললে ত্বকের রং কিছুটা উজ্জ্বল হয়। কাজেই তথাকথিত রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করে আর্থিক ও শারীরিকভাবে প্রতারিত হওয়ার মানে হয় না।

রং ফর্সা করার দাবিদার যেকোন ক্রিম ত্বকের জন্য ক্ষতিকর

কসমেটিকসামগ্রী নিয়ে দেশে এখন যে ধরনের অপপ্রচার চলছে তা বােধহয় পৃথিবীতে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এসব কসমেটিকের মধ্যে তথাকথিত রং ফর্সাকারী কমেপ্লক্সন ক্রিম ও স্পটক্রিম নিয়ে মিথ্যাচার ও প্রতারণা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। টেলিভিশন খুললেই প্রতিনিয়ত এসব ক্রিমের উদ্ভট অবৈজ্ঞানিক দাবি ও বক্তব্য সংবলিত বিজ্ঞাপনের দাপট চোখে না পড়ার কথা নয়। এসব তথাকথিত রং ফর্সাকারী কমপ্লেক্সন ক্রিম ও স্পট ক্রিমের ভুয়া বিজ্ঞাপনের মিথ্যা আশ্বাসে পড়ে প্রতিদিন লাখ লাখ নারী পুরুষ প্রতারিত হচ্ছে। ভৌগলিক অবস্থান এবং বংশগত কারণে আমাদের দেশের অধিকাংশ নারী ও পুরুষের গায়ের রং হালকা বাদামী বর্ণের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মুখােমুখি হচ্ছে। তাই অনেক বাদামী বর্ণের অর্থাৎ কালাে বলে কথিত মেয়েদের মধ্যে ফর্সা হওয়ার একটা সুপ্ত ইচ্ছা দীর্ঘদিন ধরে লালিত হতে থাকে। ফর্সা হওয়ার সেই সুপ্ত ইচ্ছাকে জাগিয়ে তুলছে তথাকথিত কমপ্লেক্সন ক্রিম ও স্পট ক্রিমের ভুয়া বিজ্ঞাপন। রং ফর্সা করার জন্য এ দেশের মানুষে আগ্রহ এতটাই বেশি যে চিকিৎসকদের সতর্কবাণী তাদেরকে তথাকথিত রং ফর্সাকারী ক্রিম থেকে দূরে রাখতে পারছে না। রেডিও টেলিভিশনে রং ফর্সাকারী ও যে কোন দাগ দূর করার মিথ্যা প্রতিশ্রুতির চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ মেয়ে প্রতারিত হচ্ছে এবং রং ফর্সা হওয়া কিংবা দাগ দূর হওয়ার পরিবর্তে অনেকেই উল্টা এসব ক্রিমের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে শারীরিক ক্ষতিকে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। পৃথিবীর যে কোন দেশে যে কোন কসমেটিকের কন্টেনার ও মােড়াকের গায়ে তার মধ্যে কি কি উপাদান আছে তা লিখে দেয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। এত করে কসমেটিকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। অথচ অবাক ব্যাপার হচ্ছে, কমপ্লেক্সন ও স্পটক্রিমের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির তিনি নিজেই তার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তুকৃত ক্রিমে কী উপাদান আছে তা জানেন না। প্রকৃতপক্ষে লাবণ্যময় ত্বক মানেই সুন্দর ত্বক। অপুষ্টি ও অযত্নের কারণে অনেক সময় ত্বক মলিন হয়ে সৌন্দর্য হানি ঘটায়। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, রােদ এড়িয়ে চলা, ভিটামিনসমৃদ্ধ শাকসবজি, তাজা ফল ও ফলের রস খাদ্যের মাধ্যমেই ত্বকের হারানাে লাবণ্য ফিরে পাওয়া যেতে পারে। তবে তথাকথিত রং ফর্সাকারী ক্রিমের কোন ভূমিকা নেই। এছাড়া পৃথিবীর কোথাও রং ফর্সাকারী ক্রিম বলতে কোন কিছু আজও উদ্ভাবিত হয়নি। অথচ রং ফর্সাকারী অতিপরিচিত কমপ্লেক্সন ক্রীমের প্যাকেটের মধ্যে একটি লিফলেটের শিরােনামে বাংলাদেশে এই প্রথম এক আশ্চর্য্য রং ফর্সাকারী ক্রীম এই কথাটি লিখে চরম মিথ্যাচার করেছে। এসব ক্রিমকে কেন রং ফর্সাকারী ক্রিম বলে প্রচার করা হচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে একটি কর্তৃপক্ষ এটিকে ব্যবসায়িক কৌশল বলে অভিহিত করে বলেন-‘ এটি বিজনেস ট্রেটিজি, এটা না লিখলেতাে লােকে কিনবে না। শুধু ফর্সা করাই নয়, একাধারে ব্রণ, মেছতা, ছুলি কালােদাগ দূর করা, মেকআপের ফাউন্ডেশন হিসাবে, শেভের পর এন্টিসেপটিক ক্রিম হিসাবে বিশ্বাসযােগ্যতার সঙ্গে কাজ করে এমন উদ্ভট দাবী অতি পরিচিত একটি কমপ্লেক্সন ক্রিমের ইনার লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে। একটি ক্রিম কিভাবে এত চর্ম রােগে কাজ করে, এ বিষয়ে বিস্মিত হয়ে বলেন-এটা কীভাবে সম্ভব। একটি ক্রিম দিয়ে যদি মেছতা এবং কালাে দাগ দূর করার কথা বলা হতাে তাহলেও মেনে নেয়া যেত। কিন্তু ব্রণ ও ছুলি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন অসুখ। একটি ক্রিমে কিভাবে এত চর্মরােগ সারে তা বিশেষজ্ঞদের কাছে বােধগম্য নয়। এই প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির চর্মরােগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম মাঈদুল ইসলাম বলেছেন-ব্রণ, মেছতা, ছুলি কালাে দাগ, এসব রােগের কারণ, রােগের প্যাথজেনেসিস বা রােগাক্রান্ত করার প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা আলাদা আলাদা। মেছতার ত্বকে কালােদাগ পড়ে আর ছুলিতে সাদা দাগ পড়ে। দুইটি বিপরীত ধর্মী ত্বকের উপসর্গে চিকিৎসার লক্ষ বিপরীত ধর্মী হওয়া উচিত। ধরে নিলাম রং ফর্সাকারী কমপ্লেক্সন ক্রিমটি মেছতার কালাে দাগ দূর করে, তাহলে এটিতে ছুলির সাদা দাগকে আরাে সাদা করার কথা যা কারাে কাম্য নয়। একটি ক্রিমে এতগুলাে চর্মরােগ সারানাের দাবিকে তিনি উদ্ভট ও অবৈজ্ঞানিক বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া তিনি আরাে বলেন-ব্রণ, মেছতা, ছুলি কিংবা ত্বকের যে কোন কালাে দাগ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ডারমাটেলজির আওতাধীন রােগ। এসব চর্মরােগের ভাল চিকিৎসাও রয়েছে। অথচ রং ফর্সাকারী ফেয়ারনেস ক্রিম, কমপ্লেক্সন ক্রিম ও স্পট ক্রিমের নামে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান মানুষকে স্রেফ মিথ্যা কথা বলে ব্যবসায়িক ফয়দা লুটছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে ক্রিমটি ব্রণ, মেছতা, ছুলি ও কালাে দাগ দূর করার কাজে ব্যবহৃত হবে তখন আর তাকে প্রসাধন বলা যাবে না। তখন তাকে ওষুধ বলে গণ্য করতে হবে এবং বাজারজাত করার আগে ওষুধ প্রশাসনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। কোন প্রসাধনের মাধ্যমে এত চর্মরােগ সারিয়ে তােলার দাবি ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক। এসব ভুয়া ক্রিম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই মিথ্যা বিজ্ঞাপন টেলিভিশন, রেডিও ও পত্রপত্রিকায় আসছে এবং সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করে যার পরনাই ঠকছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত বিএসটিআই-এর একটি কসমেটিক ডিভিশন রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান কোন কসমেটিকে কি কি উপাদান আছে তা পণ্যের মােড়কে ও কন্টেনারের গায়ে উল্লেখ করার নিয়ম চালু তাে দূরে থাক, কসমেটিকের মােড়কের গায়ে প্রস্তুতের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লেখার সাধারণ নিয়মটি পর্যন্ত অদ্যাবধি বিএসটিআই, চালু করতে পারেনি। অন্যদিকে রেডিও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে যার আওতায় সিগারেট ও ওষুধের বিজ্ঞাপন সেখানে প্রচার করা যায় না। কিন্তু কঠোর নিয়মের ফাঁক গলে এসব ভুয়া অবাস্তব, অবৈজ্ঞানিক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির রং ফর্সাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপন কিভাবে প্রচার হচ্ছে তা বােধগম্য নয়, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এসব রং ফর্সাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপন অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত। অধ্যাপক ডাঃ মাঈদুল ইসলামের মতে কসমেটিক ক্রিম প্রস্তুকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই’কে এটাই বােঝাতে সমর্থ হয়েছে যে, পণ্যের গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লেখা থাকলে অনেক পণ্য অবিক্রীত থেকে যেতে পারে। এতে করে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হবে। বিএসটিআই মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহারে ভােক্তাদের শারীরিক ক্ষতির কথাটি বিবেচনা না করে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করেছে। শুধু রং ফর্সাকারী কমপ্লেক্সন ক্রীম কিংবা স্পট ক্রিমই নয় যে কোন ক্রিম বাজারজাত করার আগে নিশ্চিতভাবে জানতে হবে সেই ক্রিমে কি কি সক্রিয় ও নিস্ক্রিয় উপাদান কি অনুপাতে রয়েছে। তারপর কেমিষ্ট, ফার্মাসিষ্ট বিশেষজ্ঞ ডার্মাটোলজিষ্ট-এর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির তত্ত্ববধানে হিউম্যান ট্রায়াল-এর পর অনুমােদন পেলেই সেটা বাজারজাত হবে, নতুবা নয়। 

পণ্যের গায়ে লেখা থাকতে হবে উৎপাদনেরর তারিখ ও মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ। কিন্তু আমাদের দেশে কসমেটিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পণ্যের উপাদান উৎপাদন তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখের ব্যাপারে ভােক্তাদের অন্ধকারে রাখছেন। এ বিষয়ে সরকারের নিক্রিয়তার কারণে কসমেটিক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই সুযােগটি পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম মাঈদুল ইসলাম বলেন-এক সময় তিনিও বিএসটিআই-এর কসমেটিক ডিভিশনের সদস্য ছিলেন তখন তিনি তথাকথিত রং ফর্সাকারী ও স্পট ক্রিমসহ যে কোন কসমেটিক বাজারজাত করার আগে পণ্যের উপাদান উল্লেখ, মেয়াদউত্তীণের সময়সীমা উল্লেখ ও হিউম্যান টেষ্ট ইত্যাদি ওপর ভিত্তি করে নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু এরপর আর তাকে ডাকা হয়নি। মানুষের শরীরের রং জন্মগতভাবে নির্ধারিত হয়। সেই রঙকে কোনভাবেই ফর্সা করা সম্ভব নয়। একজন ফর্সা ইউরােপিয়ান সারাজীবন বাংলাদেশে থাকলেও তিনি যেমন বাঙালীর বাদামী রং পাবেন না তেমনি একজন বাংলাদেশী সারাজীবন ইউরােপে থেকে তার রং ইউরােপীয়দের মতাে ফর্সা করতে পারবেন না। তবে সূর্যালােকের প্রভাবে ত্বকের রং সাময়িকভাবে কিছুটা গাঢ় বর্ণের হয়ে যেতে পারে। সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলার মাধ্যমেই এ ক্ষেত্রে পূর্বের রং ফিরে পাওয়া সম্ভব। সূর্যরশ্মি এড়ানাে সম্ভব না হলে এ ক্ষেত্রে প্রতি ৩ ঘন্টা অন্তর সানক্রীন ক্রিম/লােশন বাবহার করা যেতে পারে। এত রং ফর্সা হবে না কিন্তু যা ছিল তাই থাকবে। এই ফলাফল লাভের জন্য সানক্রীনের একক-সানপ্রােটেকশন ফ্যাক্টর (এসপিএফ) ন্যূনতম ১৫ হাতে হবে। কিন্তু রং ফর্সাকারী ক্রিম প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের জনৈক কর্মকর্তা তাদের ক্রিমটিতে সানক্রীন রয়েছে বলে জানালেও কি পরিমাণ সানক্রীন রয়েছে তা বলতে পারেননি। উল্লেখ্য, সানস্ক্রীন দিনে ব্যবহার করতে হয়, রাতে ব্যবহার করে লাভ নেই কিন্তু কমপ্লেক্সন ক্রিমের ব্যবহার বিধিতে ক্রিমটিকে রাতে ব্যবহার করতে বলা হয়। যা হাস্যকরও বটে, তাছাড়া এসব রং ফর্সাকারী ক্রিমের কোনটিতে সানস্ক্রীন রয়েছে বলে মােড়কে উল্লেখ নেই। রং ফর্সাকারী এসব ক্রিমের একটি বিজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে এগুলাে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে “মেলানিন” কে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু মেলানিন নিয়ন্ত্রণকারী ক্রিম ত্বকের জন্য ক্ষতিকর, এতে ত্বক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা হারায়, যা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে। যেহেতু এই ধরনের রং ফর্সাকারী ক্রিমে কি আছে তা কেউই জানে না। তাই এগুলাে ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। রং ফর্সা করার দাবিদার যে কোন ক্রিমই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন-অধ্যাপক ডাঃ মাইদুল ইসলাম।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব তথাকথিত রং ফর্সাকারী ক্রিম, স্পট ক্রিম ব্যবহারের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত বিভিন্ন চর্মরােগের শিকার হয়ে প্রচুর রােগী তাদের চেম্বারে ও হাসপাতালে আসছেন। একই অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন হলিফ্যামিলি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডাঃ এমইউ কবীর চৌধুরী। ডাঃ কবীর চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন যদি তিনি ৪০ টা রােগী দেখেন তার মধ্যে ৮-১০ জনই তথাকথিত রং ফর্সাকারী কমপ্লেক্সন ক্রিম ও স্পট ক্রিমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত চর্মরােগের শিকার হয়ে তার কাছে আসেন সুতরাং একজন চর্মবিশেষজ্ঞের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকেই বােঝা যায়, এসব রং ফর্সাকারী কমপ্লেক্সন ক্রিম ও স্পট ক্রিম থেকে সাধারণ মানুষ কী ব্যাপকভাবে চর্মরােগে আক্রান্ত হচ্ছে। ব্রণ, মেছতা, ছুলি কালাে দাগ দূর করাসহ রং ফর্সা করার কাজে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনুমােদিত নয়, এমন রাসায়নিক উপাদান হচ্ছে স্টেরয়েড সাময়িকভাবে ষ্টেরয়েড জাতীয় উপাদান কাজ করে কিন্তু কিছুদিন ব্যবহারেই মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যা থেকে সেরে উঠতে চর্মবিশেষজ্ঞের তত্ত্ববধানে থেকেও বছরখানেকে লেগে যেতে পারে। স্টেরয়েডের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বজনবিদিত। যেমন-প্রাথমিকভাবে সেরে যাওয়া ব্রণ পুনরায় আরাে প্রকট হয়ে ওঠে, মেয়েদের মুখে ছেলেদের মতাে পশম গজাতে পারে, মুখে ছেলেদের মতাে পশম গজাতে পারে, মুখের ত্বক পাতলা হয়ে রক্তনালী ভেসে গােলাপী আভা ছড়ায়, এক সময় ত্বক কোন ধরনের কসমেটিক সহ্য করতে পারে না, ত্বক জ্বালা করে, চুলকায়। এক পর্যায়ে ত্বকে পানি কিংবা বাতাস লাগালেও জ্বালার অনুভুতি হয়। একমাত্র ভুক্তভােগীই এসব উপসর্গের সঙ্গে পরিচিত। স্টেরয়েড চিকিৎসকের তত্ত্ববধান ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ। রং ফর্সা করার জন্য এসব ক্রিমে হাইড্রোকুইননান কেমিক্যাল থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে এর যথেষ্ট ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বরূপ ত্বকের কোন কোন অংশ ছাড়া ছাড়া ভাবে সাদা হয়ে যায়। যাতে করে এক পর্যায়ে মনে হবে আগের রংই ভাল ছিল। ফর্সা রঙের প্রতি এ দেশের লােকজন বরাবরই দুর্বল। আর এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে প্রসাধনী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলাে রং ফর্সাকারী ক্রিম বাজারে ছেড়েছে। এসব ক্রিমে এখন বাজার সয়লাব। রং ফর্সাকারী ক্রিম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের দাবী অনুসারে এসব সামগ্রী মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ত্বক আরও ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তােলে কিন্তু চর্ম বিশেষজ্ঞরা তাদের এই দাবি প্রত্যাখান করে বলেছে-এটা জনগণকে প্রতারিত করছে এবং চর্মরােগ আক্রান্ত করছে। এ প্রসঙ্গে ভারতের মুলচান্দ হাসপাতালের চর্ম রােগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এএইচ রিজভী এক সাক্ষাতকারে বলেছেন রং ফর্সাকারী বেশির ভাগ ক্রিমের রং উজ্জ্বলকারী পদার্থ হাইড্রোকুইনেন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর ফলে ত্বকের ক্যান্সার ও লিউকোডারমা রােগ হয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে অনেক আগেই বাংলাদেশে ফর্সাকারী ক্রিম নিয়ে চলছে মিথ্যা প্রচারণা। যার ফলে লাখ লাখ মহিলা আর্থিকভাবে প্রতারিত হচ্ছেন এবং চর্মরােগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই ধরনের ক্রিমের ওপর বিএসটিআই, ওষুধ প্রসাধন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, তথা সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ক্রিম ব্যবহারকারীদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
Previous Next
No Comments
Add Comment
comment url