খুশকি দূর করার উপায় ও শ্যাম্পুর ব্যবহার

সেবােরিক ফলিকুলাইটিস বা খুশকিজনিত লােমকূপের প্রদাহ 

কারাে কারাে মাথায় এবং জ্বতে প্রচুর ছোট ছােট গােটা হয় যা সব সময় চুলকায় কিন্তু পাকেনা। গরমে বেশি চুলকায়। এর সমাধান কী?

সমস্যাটির নাম সেবােরিক ফলিকুলাইটিস। এজন্যে পলিটার লিকুইড দিয়ে সপ্তাহে ২ বার ৫ মিনিটব্যাপী ফেনা করে মাথা ও জ্ব ধুতে হবে। পাশাপাশি এন্টিফাংগাল ও স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ক্রিম, যেমন- ফাংগিডাল এইচসি দিনে ১/২ বার লাগাতে হবে। উপকার পেলে চিকিৎসা ব্যবস্থাটি কয়েকমাস চালিয়ে যেতে হবে এবং ক্রিমের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলে বন্ধ করতে হবে। এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটলে অসুবিধা হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ব্যবস্থা নেয়াই ভালাে।

এন্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পুর ব্যবহার

খুশকি দূর করার জন্যে অনেকে এন্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। কিন্তু কতদিন পর পর এন্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত?

যারা খুব বেশি বাইরে ধূলিময় পরিবেশে কাজে ব্যস্ত থাকেন তাদের প্রতিদিনই শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু এতে চুল রুক্ষ হয়ে যায় বলে অনেকে সেটা করতে আগ্রহী থাকেন না। তাই এক্ষেত্রে প্রথম প্রথম প্রতিদিন অথবা একদিন পরপর শ্যাম্পু করে খুশকি নিয়ন্ত্রণে এনে পরবর্তীতে প্রয়ােজন মতাে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত সপ্তাহে কমপক্ষে ২ বার শ্যাম্পু করা উচিত। কারাে কারাে ক্ষেত্রে সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করলেই চলে।

মাথায় খুশকি 

মাথায় প্রচুর খুশকি। বিভিন্ন শ্যাম্পু, সাবান ও তেল ব্যবহারেও কোনাে উপকার হয়না। খুশকি থেকে পরিত্রানের উপায় কী?

খুশকিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে দমিয়ে রাখা সম্ভব। বিভিন্ন শ্যাম্পু ও সাবানে খুশকি দূর হবে এমন কোনাে কথা নেই। তেল খুশকিকে আরাে বাড়িয়ে দেয়। তবে খুশকিকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে নতুবা ধীরে ধীরে চুল সব ঝরে যাবে। বিভিন্ন ভাবে খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন সপ্তাহে এক থেকে দু বার পলিটার লিকুইড (Polytar liquid) দিয়ে মাথা ধুতে হবে। পলিটার লিকুইড মাথায় মেখে ফেনা করে ১০ মিনিট রাখতে হবে। যতদিন খুশকি নিয়ন্ত্রণে না আসছে ততদিন পলিটার লিকুইড মেখে যেতে হবে। কখনাে কখনাে সপ্তাহে এক দুবার পলিটার লিকুইড দিয়ে মাথা ধােয়াই যথেষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে প্যানটিন প্রাে-ভি (Pantene pro-V) শ্যাম্পু দিয়ে প্রয়ােজনে সপ্তাহের অন্যান্য দিন মাথা ধুতে হবে। যদি শ্যাম্পু দিয়ে প্রতিদিন মাথা ধােয়ার প্রয়ােজন পড়ে তাহলে তাই করতে হবে। মাথায় প্রতিদিন শ্যাম্পু দিলে চুলের ক্ষতি হয় না।

অনেকেই খুশকি দূর করতে মাথায় খৈল মেখে কিছুক্ষণ পর মাথা ধুয়ে ফেলেন, এতে কি কোন লাভ হয়?

নিজে ডাক্তারী ফলাতে গিয়ে রােগীরা বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে চিকিৎসাকার্যে। তেমনি একটি উপাদান হচ্ছে সরিষার খৈল। সরিষা থেকে তেল বের করার সময় বর্জ্য পদার্থ হিসাবে এই খৈল পাওয়া যায়। এটি গাে খাদ্য হিসাবে সমাদৃত। এই খৈল অনেকেই মাথায় ব্যবহার করেন খুশকি দূর করার জন্য। খৈল ব্যবহারে খুশকি দূর হয় এ ধারণা অনেকেরই। প্রকৃতপক্ষে এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। খৈল ব্যবহারের কারণে মাথার শুষ্ক খুশকিগুলাে ভিজে মাথার ত্বকে লেগে থাকে এবং দেখা যায় না। আর একেই অনেকে খুশকি চলে গেছে বলে ভাবে এ বিষয়ে বিশিষ্ট চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম ইউ কবীর চৌধুরী বলেন, খৈল ব্যবহারে কখনই খুশকি দূর হয় না। খুশকি অদৃশ্যমান হয়, দূর হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু খুশকির জায়গায় খুশকি ঠিকই থাকে। তার কথা হচ্ছে চুলে খুশকি বিভিন্ন কারণে হয়। কারণ নির্ণয় করে এই খুশকি দূর করাতে হবে বিভিন্ন ধরনের খুশকির বিভিন্ন চিকিৎসা। খুশকি সম্পূর্ণ নিরাময় গ্যারান্টি দেয়া যায় না। চিকিৎসার মাধ্যমে একে দমিয়ে রাখা যায়। আর সেটাই আসল কাজ। এজন্য এন্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু, এন্টিফাঙ্গাল প্রিপারেশন ব্যবহার এবং চুল ভেজা না রাখা, মাথা পরিস্কার রাখা প্রয়ােজন। একজন চর্ম বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে সঠিক মতামত রাখতে পারেন। খুঁজে বের করতে পারেন খুশকির কারণ ও তার যথাযথ চিকিৎসা। কাজেই অযথা মাথায় খৈলের বােঝা না বাড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খৈল ব্যবহারে তাৎক্ষণিকভাবে পুলকিত হবেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।

ছত্রাক থেকে খুশকি 

১/ ছত্রাকের কারণে কি খুশকি হতে পারে? 
২/ পলিটার, সেলসান-রু কি ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে? 
৩/ খুশকি নিয়ন্ত্রণ করা কি সত্যি সম্ভব?

হ্যাঁ, ছত্রাকের কারণে খুশকি হতে পারে। পিটাইরাে স্পারােন জাতীয় ছত্রাক, যা কি-না সবার ত্বকেই থাকে তা খুশকির পরিমাণকে বাড়িয়ে দেয়। তাই এই পিটাইরাে স্পােরােনের পরিমাণ কমাতে পারলে খুশকির পরিমাণ কমবে। এই জাতীয় ছত্রাকের বিরুদ্ধে সেলসান-ব্র'র ভূমিকা আছে, পলিটারের নেই। খুশকি কনট্রোল করা বা দমিয়ে রাখা সম্ভব।

খুশকির চিকিৎসায় মেহেদী 

অনেকে খুশকির জন্যে মাথায় মেহেদী দেন। মাথায় মেহেদী দিলে কি সত্যিই খুশকি কমে?

হ্যাঁ, মাথায় মেহেদী ব্যবহার করলে খুশকি কম হয়। মাথায় মেহেদী ব্যবহার করার নিয়ম হলাে মেহেদী পাতা শুকিয়ে পাউডার করে নিতে হবে, তারপর অল্প পানির সাথে মিশিয়ে মাথায় লাগানাের পর ৫ থেকে ৭ মিনিট তােয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে হবে। তারপর সাবান দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে একবার করে তিনমাস ব্যবহার করলে খুশকি কমে যাবে। 

Previous Next
No Comments
Add Comment
comment url