সপ্তশলাকা ও বিবাহ বিচার
সপ্তশলাকা তৈরী ও বিবাহ বিচার
সপ্তশলাকা, উত্তর দক্ষিণে সাত রেখা ও পূর্ব পশ্চিমে সাত রেখা দিবে পরে উত্তর দিকে প্রথম রেখা হইতে কৃত্তিকাদি করিয়া অভিজিৎ সহ অষ্টাবিংশতি নক্ষত্র বসাইয়া যে গ্রহ যে নক্ষত্রে থাকিবেন, তাহাকে সেই নক্ষত্রাশ্রিত রেখায় বসাইবে। বিবাহযােগ্য নক্ষত্রে চন্দ্র ভিন্ন গ্রহ কিংবা সেই রেখার সম্মুখবর্তী নক্ষত্রে কোন গ্রহ অবস্থিত হইলে সপ্তশলাকা বেধ হয়। তাহাতে বিবাহ নিষেধ।বেধের নিয়ম — কৃত্তিকার সহিত প্রথম ৪ দণ্ড ব্যতীত শ্রবণার, রােহিণীর সহিত অভিজিতের ( উত্তরাষাঢ়ার শেষ ১৫ দণ্ড ও শ্রবণার প্রথম ৪ দণ্ড অভিজিৎ ), মৃগশিরার সহিত উত্তরাষাঢ়া আদ্যপাদয়ের বেধ ইত্যাদি অর্থাৎ কৃত্তিকা নক্ষত্রে গ্রহ থাকিলে প্রথম ৪ ব্যতীত শ্রবণা নক্ষত্রে, রােহিণী নক্ষত্রে গ্রহ থাকিলে অভিজিতের, মৃগশিরা নক্ষত্রে থাকিলে উত্তরাষাঢ়ায় প্রথম ৩ পাদে বিবাহ হইবে না।
সপ্তশলাকাবিদ্ধ দোষ — যে স্ত্রীর বিবাহে চন্দ্র সপ্তশলাকাচক্রে শুভ কিংবা অশুভ গ্রহ দ্বারা বিদ্ধ হয়, সেই স্ত্রী বিবাহের রক্তবস্ত্র পরিধান করিয়া স্বামীর শ্মশানভূমিতে প্রয়াণ করে অর্থাৎ স্বামীর সৎকার করিতে শ্মশানভূমিতে গমন করে
বিবাহ লগ্ন — কন্যা, তুলা, মিথুন ও ধনুর পূর্বার্ধকাল বিবাহে প্রশস্ত এবং নিন্দনীয় লগ্নের দ্বিপাদাংশ অর্থাৎ কন্যা তুলা ও মিথুনের নবাংশ ইষ্ট হয়। যদি লগ্নে সপ্তম, অষ্টম ও দ্বাদশ স্থানে শুভগ্রহ না থাকেন, দ্বিতীয়, তৃতীয় একাদশ স্থানে চন্দ্র থাকেন এবং তৃতীয় ও একাদশ, ষষ্ঠ ও অষ্টম স্থানে পাপগ্রহ থাকেন, শুক্র ষষ্ঠে ও মঙ্গল অষ্টমে না থাকেন, তাহা হইলে সেই লগ্ন প্রশস্ত এবং চন্দ্র পাপ মধ্যগত বা রবি, মঙ্গল, শনি ও শুত্র যুক্ত হইলে তাহাকে পরিত্যাগ করিবে।
সূতহিবুকযােগ – বিবাহ সময়ে লগ্নের চতুর্থ, পঞ্চম, নবম দশমে যদি বৃহস্পতি কিংবা শুক্র থাকেন তবে সূতহিবুকযােগ হয় ইহাতে লগ্নের সমস্ত দোষ নষ্ট ও সুখ বৃদ্ধিকরে।
গােধূলি কথন — যে সময়ে পশ্চিমদিকে ঈষৎ রক্তবর্ণ এবং গােপাদোঙ্খিত ধূলিতে সমাচ্ছন্ন আকাশে দুই একটি তারকা দৃষ্ট হয়, ভৃগুনন্দন কহেন সেই সময়ের নাম গােধূলি। মুনিগণ কহেন বিবাহাদি কার্যে গােধূলি তিন প্রকার হেমন্ত শিশিরকালে সূর্য্য বিনষ্ট কিরণজাল হইয়া গােলাকৃতি হইলে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে অর্দ্ধাস্তমিত হইলে এবং বর্ষা ও শরৎকালে সূর্য্য অস্তাচলে গমন করিয়া অদৃশ্য হইলে গােধূলি হয়। সময়ে বিশুদ্ধ লগ্ন না পাওয়া যায়, সেই সময়ে গােধূলি শুভ ফল দেয় অন্যথা অশুভ। গােধূলিতে গ্রহ নক্ষত্র বার, তিথি কার্যে নিরন্তর অব্যাহত হইয়া শুভ ফল প্রদান করে। বিবাহের শুভ সময় হচ্ছে গোধুলী। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ বিবাহ শেষ রাত্রীতে হয়ে থাকে।
দিবা বিবাহ নিষেধ — দিবাভাগে বিবাহ হইলে কন্যা পুত্রবর্তিা, বিরহানলদন্ধী ও স্বামীঘাতিনী হয়।
প্রিয় পাঠক, এই বিষয় আরো পোস্ট পড়তে সূচিপত্র দেখুন।
