জ্যোতিষ বচনার্থ || শুভ দিনক্ষণ বিচার

জ্যোতিষ বচনার্থ আমাদের বাস্তুতন্ত্র ও শাস্ত্রবিধির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা জ্যোতিষ শাস্ত্রকেই জীবনের পথ প্রদর্শক হিসেবে মান্য করেন। তবে এটা সত্যি, যারা ভাগ্য, গ্রহ ও রাশি বিশ্বাস করেন। তাদের কাছে জ্যোতিষ শাস্ত্র “পথ নির্দশক”। 

জ্যোতিষ বচনার্থ
সাতটি রার:  —১ রবি, ২ সােম, ৩ মঙ্গল, ৪ বুধ, ৫ বৃহস্পতি, ৬ শুক্র, ৭ শনি

শুভাশুভ রার — সোম, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্র এই চারটি বার প্রায় সকল কর্মে শুভ। রবি, মঙ্গল ও শনি এই তিনটি বার অশুভ, কিন্তু কোন কোন শুভকর্মে প্রশস্ত।

বারবেলা ও কালবেলা — দিনমানকে আট ভাগে ভাগ করিলে ঐ এক এক ভাগকে যামার্দ্ধ কহে ! রবিবারে চতুর্থ পঞ্চম, সােমবারে সপ্তম ও দ্বিতীয়, মঙ্গলবারে দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ বুধবারে পঞ্চম ও তৃতীয়, বৃহস্পতিবারে অষ্টম ও সপ্তম শুক্রবারে তৃতীয় ও চতুর্থ, শনিবারে ষষ্ঠ, প্রথম ও অষ্টম যামার্দ্ধকে যথাক্রমে বারবেলা ও কালবেলা বলে। ঐ বারবেলা ও কালবেলা পরিত্যাগ করিয়া শুভকর্ম করা বিধেয়।

কালরাত্রি — রাত্রিমানের আট ভাগের এক এক ভাগকে যামার্দ্ধ কহে। রবিবারে ষষ্ঠে, সােমবারে চতুর্থ, মঙ্গলবারে দ্বিতীয়, বুধবারে সপ্তম, বৃহস্পতিবারে পঞ্চম, শুক্রবারে তৃতীয় শনিবারে প্রথম ও অষ্টম যামার্দ্ধকে কালরাত্রি কহে। ইহাতে কোন কার্য করা বিধেয় নহে। — জ্যোতিষ বচনার্থ।

কালবেলা কালরাত্রির ফল — কালবেলা ও কালরাত্রিতে যাত্রা করিলে মৃত্যু, বিবাহে কন্যা বিধবা ও উপনয়নে ব্রহ্মবধের পাপ হয়। সুতরাং ইহা পরিত্যাগ করা উচিত।

শুক্লা তিথি — ১ প্রতিপদ, ২ দ্বিতীয়া, ৩ তৃতীয়া, ৪ চতুর্থী ৫ পঞ্চমী, ৬ ষষ্ঠী, ৭ সপ্তমী, অষ্টমী, ৯ নবমী, ১০ দশমী, ১১ একাদশী, ১২ দ্বাদশী, ১৩ ত্রয়ােদশী, ১৪ চতুর্দশী, ১৫ পূর্ণিমা

কৃষ্ণা তিথি —১৬ প্রতিপদ, ১৭ দ্বিতীয়, ১৮ তৃতীয়া, ১৯ চতুর্থী, ২০ পঞ্চমী, ২১ ষষ্ঠী, ২২ সপ্তমী, ২৩ অষ্টমী, ২৪ নবমী ২৫ দশমী, ২৬ একাদশী, ২৭ দ্বাদশী, ২৮ ত্রয়ােদশী, ২৯ চতুর্দশী, ৩০ অমাবস্যা।

নন্দা তিথি — প্রতিপদ, ষষ্ঠী ও একাদশীকে নন্দা কহে দ্বিতীয়া, সপ্তমী ও দ্বাদশীকে ভদ্রা নহে। তৃতীয়া, অষ্টমী ত্রয়ােদশীকে জয়া কহে। চতুর্থী, নবমী ও চতুর্দশীকে রিক্তা কহে পঞ্চমী, দশমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমাকে পূর্ণা তিথি কহে।

মাসদগ্ধা ও চন্দ্রদগ্ধা — সৌর বৈশাখের শুক্লা যষ্ঠী জ্যৈষ্ঠের কৃষ্ণা চতুর্থী, আষাঢ়ের শুক্লাষ্টমী, শ্রাবণের কৃষঃ ষষ্ঠী ভাদ্রের শুক্লা দশমী, আশ্বিনের কৃষ্ণাষ্টমী, কার্তিকের শুক্লা দ্বাদশী, অগ্রহায়ণের কৃষ্ণা দশমী, পৌষের শুক্লা দ্বিতীয়া, মাঘের | কৃষ্ণা দ্বাদশী, ফাল্গুনের শুক্লা চতুর্থী, চৈত্রের কৃষ্ণা দ্বিতীয়া সকল তিথি মাসদগ্ধা। এইরূপে মেষাদি রাশিতে চন্দ্র থাকিলে উক্ত তিথি সকল চন্দ্রদগ্ধা। ইহাতে জন্ম হইলে অল্পায়ু, বিবাহে কন্যা বিধবা, যাত্রায় মরণ, কৃষিকার্যে ও বাণিজ্যে নিষ্ফল, বিদ্যারম্ভে মূর্খতা, নূতন গৃহ প্রবেশে গৃহনাশ, চুড়ায় অল্পায়ু, ঋণদান, উপনয়ন ও দান নিষ্ফল হয়। ইহাতে কোন শুভকার্য করিতে নাই।— জ্যোতিষ বচনার্থ।

ত্র্যহস্পর্শ— একদিনে দুই তিথির অন্ত হইলে তাহাকে অন্তর কহে ও একতিথি তিন দিন স্পর্শ করিলে তাকে ত্র‍্যহস্পর্শ কহে। অধম ও ত্র‍্যহস্পর্শে কোন শুভকার্য করিতে নাই। গ্রহান্তরে একদিনে তিন তিথির সম্পর্কে ত্র্যহস্পর্শ উক্ত আছে।

নক্ষত্র — ১ অশ্বিনী, ২ ভরণী, ৩ কৃত্তিকা, ৪ রােহিণী, ৫ মৃগশিরা, ৬ আদ্রা, ৭ পুনর্ব্বসু, ৮ পুষ্যা, ৯ অশ্লেষা, ১০ মঘা, ১১ পূর্ব্বফল্গুনী, ১২ উত্তরফল্গুনী, ১৩ হস্তা, ১৪ চিত্রা, ১৫ স্বাতী, ১৬ বিশাখা, ১৭ অনুরাধা, ১৮ জ্যেষ্ঠা, ১৯ মূলা, ২০ পূর্ব্বাষাঢ়া, ২১ উত্তরাষাঢ়া, ২২ শ্রবণা, ২৩ ধনিষ্ঠা, ২৪ শতভিষা, ২৫ পূর্বভাদ্রপদ, ২৬ উত্তরভাদ্রপদ, ২৭ রেবতী।

উগ্রাদি কথন — পূর্ব্বনী, পূর্ব্বাষাঢ়া, পূর্ব্বভাদ্রপদ, মধ্য ভরণী — উগ্রতরফল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া, উত্তরভাদ্রপদ ও রোহিণী—ধ্রুবগণ। 
স্বাতী, পুনর্ব্বসু, শ্রবণা ও শতভিষা — চরগণ। পুষ্যা, অশ্বিনী ও হস্তা — ক্ষিপ্রগণ। 
চিত্রা, অনুরাধা, মৃগশিরা ও রেবতী — মৃদুগণ।
অশ্লেষা, আর্দ্রা, জ্যেষ্ঠ ও মূলা — তীক্ষ্ণগণ। 
কৃত্তিকা ও বিশাখা — মিশ্রগণ।

যােগ —১ বিষ্কুম্ভ, ২ প্রীতি, ৩ আয়ুষ্মন, ৪ সৌভাগ্য, ৫ শােভন, ৬ অতিগগু, ৭ সুকর্ম্মা, ৮ ধৃতি, ৯ শূল, ১০ গণ্ড, ১১ বৃদ্ধি, ১২ ধ্রুব, ১৩ ব্যাঘাত, ১৪ হর্ষণ, ১৫ বজ্র, ১৬ অসৃক, ১৭ ব্যতীপিত, ১৮ বরীয়ান, ১৯ পরিঘ, ২০ শিব, ২১ সিদ্ধ, ২২ সাধ্য, ২৩ শুভ, ২৪ শুক্র, ২৫ ব্রহ্ম, ২৬ ইন্দ্র, ২৭ বৈধৃতি।

যােগের বর্জনীয় কাল — পরিঘযােগের প্রথমার্ধ, বিষ্কুম্ভযোগের প্রথম ৫ দণ্ড, শূলের ৭ দগু, গণ্ড, অতিগণ্ড ও ব্যাঘাতযােগের ৬ দণ্ড, হর্ষণ ও বজ্রযােগের ৯ দণ্ড, বৈধৃতি ও ব্যতীপাতযােগের সমস্ত পরিত্যাগ করিয়া শুভকার্য্য করা বিধেয়।

করণ — ১ বব, ২ বালব, ৩ কৌলব, ৪ তৈতিল, ৫ গর, ৬ বণিজ, ৭ বিষ্টি — এই সাতটি চরকরণ। 
১ শকুনি, ২ চতুষ্পাদ, ৩ নাগ, ৪ কিস্তুঘ্ন — এই চারিটি ধ্রুবকরণ। 
শকুনিশ— শ, চতুষ্পাদ — চ, নাগ — না, কিন্তুঘ্ন — কিং।

বিষ্টিভদ্রা — কৃষ্ণপক্ষে তৃতীয়া ও দশমীর শেষার্দ্ধ, সপ্তমী ও চতুর্দশীর পূর্ব্বার্দ্ধ এবং শুক্লপক্ষে চতুর্থী ও একাদশীর শেষার্দ্ধ, অষ্টমী ও পূর্ণিমার পূর্বার্দ্ধ বিষ্টিভদ্রা। ইহা ত্যাগ করিয়া যাত্রা ও শুভকর্ম করা বিধেয়। বিষ্টিভদ্রার শেষ তিন দণ্ড পূচ্ছ, ইহাতে যাত্রাদি করিলে কার্যে জয়লাভ হয়। 

জ্যোতিষ বচনার্থ — এই বিষয়ে আরো পোস্ট পড়তে “শাস্ত্রবিধি ও দিনক্ষণ” সূচিপত্র দেখুন। — গণক্কার। 

Previous Next
No Comments
Add Comment
comment url