আমাশয় রোগের লোক চিকিৎসার কিছু পদ্ধতি
আমাশয়: আমাশয় মূলত দুভাগে বিভক্ত করা হয়—‘সাদা আম' ও ‘রক্ত আম'। আমাশয় চিকিৎসার উপায় নিম্নরূপ।
রসগােল্লার রস: রসগােল্লার গরম রস এক কাপ পরিমাণ দু'তিন দিন খেলে আমাশয় বিশেষত ' সাদা আম আরােগ্য হয়। (পরীক্ষিত ও ফলপ্রদ)।
গন্ধ ভাদুলের পাতার রস: গন্ধ ভাদুলের পাতার রস অর্থ থেকে এক ঝিনুক পরিমাণ সামান্য মধুর সঙ্গে মেড়ে প্রত্যহ সকালে সেবন করলে আমাশয় আরােগ্য হয়।
মুথা ও ক্ষেত পাঁপড়ার গুড়া: এক তােলা মুথার গুড়ার সাথে এক আনা পরিমাণ ক্ষেত পাপড়ার গুঁড়া মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে বাসি পেটে সেবন করলে আমাশয় রােগ নিরাময় হয়।
ক্বাথ: পানের-ষােলটি মুথার মূল ছেঁচে আধ সের পানি ও আধ পােয়া ছাগলের দুধ সহ জ্বাল দিয়ে আধ পােয়া থাকতে নামিয়ে হেঁকে দৈনিক দুতিনবার সেবন করলে আমাশয়, অজীর্ণ, গ্রহণী, আমাতিসার প্রভৃতি রােগ আরােগ্য হয়।
শামুক: শামুকের মুখের চাড়া পাটায় ঘষে সেই ‘ ময়লা ’ দু'তিন দিন খাওয়ালে আমাশয় রােগ আরােগ্য হয়। (পরীক্ষিত ও ফলপ্রদ)।
টাইম ফুল: টাইম ফুলের গাছের দু'তিনটি আগা সামান্য লবণসহ পিষে রস তৈরী করে তিন দিন সকালে বাসি পেটে খাওয়ালে, শিশুদের আমাশয় রােগ আরােগ্য হয়।
গাব গাছের ছালের রস: গাব গাছের ছাল ঘেঁচে রস বের করে, সেই রসের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে, আধ থেকে এক ঝিনুক পরিমাণ প্রত্যহ দু'তিনবার সেবন করলে, আমাশয় ও পেটের পীড়া দূর হয়।
বিলেতী কচা গাছের আঁঠা: টাকি ভেন্না, বিলাতী কচা, নােনা কচা বা বিলাতী ভেন্না গাছের সাদা কস তিন ফোটা মাত্র, বা হাতের তালুতে নিয়ে বাসি পেটে প্রতিদিন সকালে একবার করে তিনদিন খেলে আমাশয় আরােগ্য হয়।
কাঁটানটের শিকড়: কাঁটানটের শিকড় সিকি তােলা পরিমাণ তিনটি গােলমরিচসহ পিষে নিয়মিত কিছুদিন সেবন করলে রক্তামশায় রােগ আরােগ্য হয়। অথবা ; ঐ শিকড় পিষে এক ঝিনুক পরিমাণ রস বের করে আঁখের চিনিসহ দৈনিক সকালে ও বিকালে দুবার করে খেলে আমাশয় রােগ নিরাময় হয়।
কুকশিমা গাছের রস: কুকশিমা গাছের পাতার রস আঁখের চিনিসহ এক ঝিনুক পরিমাণ কিছুদিন সকালে ও বৈকালে সেবন করলে আমাশয় রােগ দূর হয়।
ডালিম গাছের ছাল ও পাতার রস+কুটরাজের ছাল: ডালিম গাছের ছাল, জালি পাতা ও কুটরাজের ছাল একত্রে পিষে রস করে এক ঝিনুক পরিমাণ রস প্রত্যহ দুবার খেলে রক্তামশায় রােগ নিরাময় হয়। ডালিমের রস কচি ডালিমের রস ঐ পরিমাণ কয়েকদিন খেলেও আমাশয় রােগ আরােগ্য হয়।
বাবলার পাতা+থানকুনি শাক: বাবলা গাছের কচি পাতা ও থানকুনি শাক বেঁটে রস করে প্রতিদিন এক তােলা পারিমাণে দু'তিন বার খাওয়ালে আমাশয় রােগ নিরাময় হয়।
বাবলার পাতা+থানকুনি শাক+তেলাকুচার পাতা: বাবলা গাছের কচি পাতা, থানকুনি শাক ও তেলাকুচার জালি পাতা এবং ডগা এক সঙ্গে শাক ভাজার মত ভেজে, ভাতের সঙ্গে খেলে, কঠিন প্রকৃতির রক্তামশায়ও আরােগ্য হয়।
বাবলার পাতা, থানকুনি, তেলাকুচার পাতা ও লৌহ গরম: বাবলা গাছের কচি পাতা, থানকুনি শাক এবং তেলাকুচার জালি পাতা ও ডগায় একত্রে বেঁটে রস করে, সেই রসের মধ্যে টকটকে লাল গরম লােহা দু-তিনবার ডুবিয়ে তা আধা থেকে এক ঝিনুক পরিমাণে প্রতিদিন সকালে ও বৈকালে দুবার, কয়েকদিন খাওয়ালে আমাশয় রােগ আরােগ্য হয়।
থানকুনি+কাঁচা হলুদ: থানকুনি লতার পাতা, গাছ ও শিকড় এবং কাচা হলুদ এক কর, ঠান্ডা পানি সই বেঁটে রস তৈরী করে-সেই রস তৈরী করে-সেই রস প্রতিদিন এক ঝিনুক পরিমাণে সকালে ও বৈকালে দুবার বাসি পেটে খাওয়ালে আমাশয় নিবারণ হয়। (পরীক্ষিত ও ফলপ্রদ)
থানকুনি-ভর্তা: থানকুনির লতা-পাতা, কাচা পেয়াজ, রসুন ও জিরা এক সঙ্গে বেঁটে কাদার মত বানিয়ে ভাতের সঙ্গে মেখে খেলে আমাশয়ে উপকার হয়। (পরীক্ষিত ও ফলপ্রদ)।
থানকুনি+বুড়ি পান+লৌহ গরম: থানকুনির পাতা, লতা ও শিকড়ের রস এবং বুড়ি পানের রস একত্রে প্রস্তুত করে, তার মধ্যে দুতিনবার গরম লােহা ডুবিয়ে মেড়ে, উক্ত রস প্রত্যহ দুবার খাওয়ালে আমশায় ও ক্রিমিযুক্ত আমাশয় রােগ নিরাময় হয়। (পরীক্ষিত ও ফলপ্রদ)।
তেলাকুচার রস+আঁখের গুড়: তেলাকুচা পাতার রস আঁখের গুড় বা চিনি সহ প্রত্যহ সকালে বাসি পেটে এক তােলা পরিমাণ সেবন করলে আমাশয় রােগ আরােগ্য হয়।
জামের পাতা+আলাে চালের পানি: রাতে ভিজিয়ে রাখা আলাে চাউলের পানিতে জামের কচি পাতা চটকে একদিন তিন চারবার খাওয়ালে আমাশয় রােগ নিরাময় হয়।
অনন্ত মূল+মধু: তিন ঝিনুক মধুর সঙ্গে তিন তােলা পরিমাণ অনন্ত মূল বেঁটে সেই রস দুঝিনুক মাত্রায় দৈনিক তিনবার কয়েকদিনের মধ্যে আমাশয় রােগ নিরাময় হয়।
বিঃদ্রঃ সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতিরই নিজস্ব ঔষধ কোষ বিদ্যমান। লোক-চিকিৎসাও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু লােক-চিকিৎসার কোন লিখিত ঔষধ কোষ নেই। বিভিন্ন স্থান থেকে বৈদ্য-কবিরাজের মৌখিক সূত্রে প্রাপ্ত চিকিৎসার একটি সংক্ষিপ্ত ঔষধকোষ এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।