হাঁপানি রোগের চিকিৎসা নিয়ে যত প্রশ্ন ও উত্তর

হাঁপানি এড়াতে যা যা করতে হয়।
অধ্যাপক (ডাঃ) আলােক গােপাল ঘোষাল

❏ প্রশ্ন: হাঁপানি তাে সারে না?

☛ উত্তর: হ্যা সারে, যদি রােগের সূত্রপাতে অথবা ৬ মাসের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রােগী এত দেরি করে আসেন যে আশানুরূপ সুফল ফলে।

❏ প্রশ্ন: দেরি কেন হবে? শ্বাসকষ্ট হলে তাে মানুষ ডাক্তারের কাছে যাবেই।

☛ উত্তর: শ্বাসকষ্ট অজস্র কারণে হয়। ব্রঙ্কাইটিস থাকলে হয়, হার্টের সমস্যা হলে হয়। কিন্তু হাঁপানিকে নিয়ে মানুষের মধ্যে এত দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, কুসংস্কার আছে যে ডাক্তার যদি বলেনও হাঁপানি হয়েছে, মানুষ প্রথমে তা মানতে চান না। বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে ঘুরে ফিরে, বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী ওষুধ পত্র খেয়ে শেষ পর্যন্ত যখন হাঁপানির যথাযােগ্য চিকিৎসার জন্য আসেন, সময়ই যথেষ্টই দেরি হয়ে গেছে।

❏ প্রশ্ন: দেরি হয়ে গেলে আর সারানাে যায় না?

☛ উত্তর: হাঁপানি দীর্ঘদিন ধরে অচিকিৎসিত থেকে গেলে শ্বাসনালিব কিছু স্থায়ী ক্ষতি হয়। সেই সব ক্ষতিপূরণ না করা গেলেও রােগ শুরু হওয়ার বছর পাঁচেকের মধ্যে এলে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের উপযােগী করে দেওয়া যায়। তার থেকেও দেরি হলে চলনসই সুস্থতা ফিরিয়ে দেওয়া যায়। তবে চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।

❏ প্রশ্ন: চিকিৎসা মানে তাে স্টেরয়েড?

☛ উত্তর: হ্যা, হাঁপানির চিকিৎসায় মূল ওষুধ কর্টিকোস্টেরয়েড। স্টেরয়েডের কিছু কুফল অবশ্যই আছে। তবে ওষুধ প্রয়ােগের ধরন পাল্টে আমরা তার অনেকটাই কমিয়ে আনতে পেরেছি।

❏ প্রশ্ন: কী রকম?

☛ উত্তর: পা ব্যবহার করে। আসলে রােগটা তাে শ্বাসনালি ফুসফুসকে ঘিরে। কাজেই ওষুধ যদি সরাসরি শ্বাসনালিতে প্রয়ােগ করা হয়, কাজও ভাল হবে, আর শরীর জুড়ে প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটাও কমবে।

❏ প্রশ্ন: বােঝা গেল না।

☛ উত্তর: ধরুন আপনি স্টেরয়েড ট্যাবলেট খেলেন, পাকস্থলী থেকে শােষিত হয়ে সে যাবে রক্তে। রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে এবং ফুসফুসে। সমস্ত শরীরে এর প্রভাব পড়বে। ওষুধের মাত্রাও রাখতে হবে বেশি। সেক্ষেত্রে সরাসরি ওষুধ শ্বাসনালিতে স্প্রে করে দিলে ওষুধ কম। শরীরেব অবাঞ্ছিত উপদ্রবগুলি ঠেকিয়ে রাখা যাবে।

❏ প্রশ্ন: অবাঞ্ছিত উপদ্রব বলতে?

☛ উত্তর: স্টেরয়েড দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খেলে কয়েকটি অসুবিধে দেখা দিতে পারে।
(১) রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে,
(২) ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে,
(৩) পেটে আলসার,
(৪) মােটা হয়ে যাওয়া,
(৫) শরীরে লােমের আধিক্য হওয়া এমনকি
(৬) এমন কি যক্ষ্মা হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে।

❏ প্রশ্ন: যক্ষ্মাও তাে ফুসফুসের অসুখ। সেক্ষেত্রে সবাসরি ওষুধ স্প্রে করলে যক্ষ্মার সম্ভাবনা বাড়তে পারে না?

☛ উত্তর: তাত্ত্বিক ভাবে সম্ভাবনা আছে। তবে বাস্তবে এরকম ঘটনাব সংখ্যা খুবই নগণ্য।

❏ প্রশ্ন: তাহলে কি শ্বাসকষ্ট হলেই পাফ নেওয়া যাবে?

☛ উত্তর: এই ব্যাপারটা একটু ভালভাবে বােঝা দরকার। পাফ দু'রকমের। একটা রােগ সারায়, একটা উপসর্গ কমায়। কটিকোস্টেরয়েড ইনহেলার রােগ সারানাের কাজে লাগে। শ্বাসনালির প্রদাহকে যদি আগুন হিসেবে ভাবি, স্টেরয়েড সেখানে জলের কাজ করে। আগুন নেভায়। স্যালবুটামল, টারবুটালিন ইনহেলার তাৎক্ষণিক কাজে আসে। হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হল, দু'চারটে পাফ নিলে সঙ্গে সঙ্গে আরাম পাওয়া যায়। অতএব প্রতিদিন নিয়ম করে স্টেরয়েড পাফ নিতে হবে। এবং এর সঙ্গে কখনও কখনও অ্যান্টি হিস্টামিনিক অর্থাৎ অ্যালার্জি কমানাের ওষুধ, যেমন সেট্রিজিন বা ফেক্সোফেনাডিন নিয়মিত খেলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। তা সত্ত্বেও কষ্ট বাড়লে স্যালবুটামল বা টারবুটালিন নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে হয় ঠিক এব উল্টোটা। স্টেরয়েড নিয়ে মানুষের মনে ভয় ভীতি আছে, এর খবচ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে উপসর্গ কমে না, ফলে আমরা বারবার বলা সত্ত্বেও অনেকেই স্টেরয়েড ব্যবহার না করে নিয়মিত স্যালবুটামল জাতীয় পাফগুলিই ব্যবহার করেন। ফলে বাড়াবাড়ি হলে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।

❏ প্রশ্ন: ছােট বাচ্চাদেরও স্টেরয়েড পাফ নিতে হবে?

☛ উত্তর: হ্যা।

❏ প্রশ্ন: বাচ্চাদের হাঁপানি তাে অনেক সময় সেরেও যায়?

☛ উত্তর: ঠিকভাবে চিকিৎসা হলে শতকরা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে অসুখ পুরােপুরি সেরে যায়। ব্যাপারটা কী রকম জানেন, সহ্য হয় না এমন মানুষের সঙ্গেও যেমন অনেকদিন থাকতে থাকতে কাজ চালানাে গােছের একটা বন্ধুত্ব হয়ে যায় সেরকম।

❏ প্রশ্ন: তার মানে রােগটাকে শরীর মেনে নিল? এরকম নয়। হাঁপানি হয় অ্যালার্জি থেকে। অর্থাৎ  কোনও একটা জিনিস শ্বাসনালি সহ্য করতে পারছে না। কিন্তু তাকে বারবার বাধ্য হয়ে সেই জিনিসেরই মুখখামুখি হতে হচ্ছে। ফলে প্রদাহ হচ্ছে শ্বাসনালিতে। প্রদাহের ফল হাঁপানি। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর শ্বাসনালির অসহ্য জিনিসটাকে মােটামুটি ভাবে মেনে নেয়। বােগের কাবণ দূর হওয়ার ফলে রােগ সেরে যায়।

❏ প্রশ্ন: অনেকে তাে কিছুদিন ভাল থাকার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন?

☛ উত্তর: এরকম বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদেব বেলায় হয়। ছােট বেলায় রােগ হল সেবেও গেল। আবাব দেখা দিল ৩০-৪০ বছর বয়সে।

❏ প্রশ্ন: তার মানে ছােটবেলার রােগটাই আবার রিল্যাপস্ কবল? ঠিকভাবে চিকিৎসা না হলে কি এরকম হয়?

☛ উত্তর: ঠিক তা নয়। এটা বােগেব একটা ধবন। শতকবা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে এরকম হয়। প্র ; আর বাকি ৩০ ভাগ বড়দেব?

☛ উত্তর: ঠিক তাই।

❏ প্রশ্ন: তার মানে কোনও জিনিসেব প্রতি হঠাৎ করে অ্যালার্জি দেখা দিল?

☛ উত্তর: হাঁপানি বা অ্যালার্জির কারণ কিন্তু দুটো। বংশগত এবং পবিবেশগত। হয়ত কারও শরীর কোনও জিনিসেব প্রতি অ্যালার্জিক কিন্তু জিনিসটা যতক্ষণ তার কাছে উপস্থিত হচ্ছে ততক্ষণ তাে অ্যালার্জি হতে পারবে না। এর তৃতীয় একটি দিকও আছে। কার কোন জিনিসে কবে থেকে অ্যালার্জি দেখা দেবে সেটা পূর্ব নির্ধারিত। আজ দুধে বা ডিমে অ্যালার্জি নেই বলে ১০ বছর বাদে হবে না এমন কোনও কথা নেই।

❏ প্রশ্ন: দুধে বা ডিমে অ্যালার্জি হলে তাে হয় পেটখাবাপ হবে নয়তাে গায়ে আমবাত।

☛ উত্তর: একেক জিনিস একেক জনের ক্ষেত্রে একেক জায়গায় অ্যালার্জি কবে। চামড়ায় আমবাত বা আর্টিকেরিযা থেকে শুরু কবে সর্দিকাশি, পেট খারাপ এমনকি হাঁপানিও হওযা সম্ভব।

❏ প্রশ্ন: কীসে অ্যালার্জি আছে কী করে বােঝা যাবে, অ্যালার্জি টেস্ট করে?

☛ উত্তর: না, অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে ভালভাবে খেয়াল করতে হবে কী খেলে সমস্যা বাড়ে। ডিম, দুধ, চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া, পুঁইশাক, অড়হড় ডাল ইত্যাদি থেকে কাবও কাবও অ্যালার্জি হয়। কিছু ওষুধ যেমন পেনিসিলিন, সালফার ড্রাগ, অ্যাসপিরিন ইত্যাদিতে অ্যালার্জি থাকতে পাবে। আর ধোঁয়া ধুলাে থেকে তাে অনেকেরই হয়।

❏ প্রশ্ন: খাওয়া দাওয়া, ওষুধপত্রের ব্যাপাবে না হয় সাবধান হওযা যায়, ধোঁয়া, ধুলাে এড়ানাে যাবে কীভাবে?

☛ উত্তর: হাঁপানিব ক্ষেত্রে বাইরের ধোঁয়া বা দূষণেব থেকে কিন্তু বেশি দায়ী ঘরের ভেতবকাব দূষণ। তার মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে ডার্মাটোফাইট নামে আমাদের চাদর বালিশের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা এক ধবনেব ছত্রাক। সেজন্য অনেকে বিছানা ঝাড়াঝাড়ি করলেই হাঁচি সর্দি শুরু হয়ে যায়। অ্যালার্জি যদি সরাসরি শ্বাসনালিতে গিয়ে উপস্থিত হয় হাঁপানিও হতে পারে। ডার্মাটোফাইট দুর করতে সপ্তাহে একবার কি দু'বার বিছানার চাদর, বালিশের কভারফুটন্ত জলে কাচতে হবে। ট্যানিক অ্যাসিড মেশানাে জল দিয়ে চাদর, বালিশের ফল্ডার ধুলেও ভাল ফল হবে। এতে কাজ না হলে বিছানার ওপর পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর শুতে হবে। বেড়াল কুকুর থেকেও অ্যালার্জি হওয়া সম্ভব। যাঁদের হাঁপানি বা অ্যালার্জি আছে তাঁদের ঘরে কুকুর বেড়াল থাকা উচিত নয়। আরশােলা যত নির্মূল করা যায় তত ভাল।

❏ প্রশ্ন: বাচ্চাদেরও কি এসমস্ত কারণের জন্যই হাঁপানি হয়?

☛ উত্তর: বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হাঁপানির কারণ অধিকাংশ সময় গরুর দুধ। অন্যান্য কাবণের জন্যও হতে পারে।

❏ প্রশ্ন: গরুর দুধ বন্ধ করে দিলে হাঁপানি সেরে যাবে?

☛ উত্তর: যদি জানা যায় যে বাচ্চার অ্যালার্জি বা হাঁপানি শুধুমাত্র গরুর দুধের জন্য হচ্ছে, দুধ বন্ধ করলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে। 

❏ প্রশ্ন: একজনের কি একাধিক কারণের জন্য হাঁপানি হতে পাবে?

☛ উত্তর: যাঁদেব অ্যালার্জির প্রবণতা আছে তাঁদের অনেক সময়ই একাধিক জিনিসে অ্যালার্জি থাকে।

❏ প্রশ্ন: হাঁপানি কি ছোঁয়াচে? বাড়িতে যে অনেক সময় একসঙ্গে একাধিক জনের দেখা যায়?

☛ উত্তর: না, হাঁপানি ছোঁয়াচে ন্য। বংশগত বলে এক পবিবারের অনেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে।

❏ প্রশ্ন: সেক্ষেত্রে তাে বিয়ের ব্যাপারে সাবধান হওয়া বকার?

☛ উত্তর: হাঁপানি থাকলে বিয়েতে কোনও বাধা নেই। তাব কাবণ বংশগত কারণে যদি কাবও মধ্যে হাঁপানিব প্রবণতা থাকে, পবিবেশগত কারণ আয়ত্তে রাখলে তার সম্ভাবনা কমবে। এবং যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা চালু করে দিলে হাঁপানি সেরে যাবে বা খুব ভাল ভাবে আয়ত্তে থাকবে।

❏ প্রশ্ন: কী দেখে বােঝা যাবে যে হাঁপানি হয়েছে বা হতে পারে?

☛ উত্তর: রােগী যখন আসেন আমাদের পাছে তখন শুধু তাঁকে নয় পরিবারের অন্যদের শারীরিক অবস্থার কথাও জানতে চেষ্টা করি। এতে রােগ বােঝা সহজ হয়। যেমন কোনও বাচ্চা এসেছে শ্বাসকষ্ট নিয়ে, যদি দেখা যায় তার মা বাবা ভাই বােনের মধ্যে কারও অ্যালার্জির প্রবণতা আছে অর্থাৎ ধোঁয়া ধুলােতে হাঁচিকাশি হয় বা আমবাত, বাচ্চার শ্বাসকষ্টের মূলে হাঁপানি থাকার খুবই সম্ভাবনা। শ্বাসকষ্ট ছাড়া অন্য কোনও উপসর্গ নেই। কিন্তু কথা বলে জানা গেল কোনও বিশেষ বিষয়ে অ্যালার্জি আছে। সেটা ওষুধেও হতে পারে। দোয়া ধুলাে, খাবার দাবার এমনকি কুকুর বেড়ালেও হতে পারে। এই শ্বাসকষ্টের হাঁপানির প্রারম্ভিক উপসর্গ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শ্বাসকষ্ট সঙ্গে বুকে সাঁই সাঁই আওয়াজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাঁপানি। শুকনাে কাশি বিশেষ করে রাত্রের দিকে বাডে, শতকরা ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে কিন্তু হাঁপানির সূত্রপাতের জন্য হতে পারে। কিন্তু অনেক সময়ই যক্ষ্মা হিসেবে চিকিৎসিত হয়। ফলে রােগ জটিল হয়ে যায়।থেট বাচ্চাদের মাঝে মধ্যেই জ্বর সর্দি কাশি হলে ভাল করে ডাক্তার দেখানাে দরকার। অনেক সময় হাঁপানির জন্য এরকম হয় বা অবহেলা করলে। এ থেকে হাঁপানি হয়ে যায়। কারণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে সর্দি যেমন বাইরে বেরিয়ে যায়, শুয়ে থাকলে কিন্তু তা হয় না। শ্বাসনালির পথ বেয়ে ফুসফুসের দিকে গিয়ে হাঁপানির সূচনা করতে পারে। অবশ্য যদি বংশগত কারণে হাঁপানি হওয়ার প্রবণতা থাকে তবেই। তবে এক্ষেত্রেও অনেক সময় যক্ষ্মার চিকিৎসা হতে থাকে। ফলে রােগ মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়।

❏ প্রশ্ন: যক্ষ্মার সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়ার কারণ কী? হাঁপানি বােগ নির্ণয় করা কি খুবই কঠিন?

☛ উত্তর: না, কঠিন কিছু নয়, শুধুমাত্র লাং ফাংশন টেস্ট বা আরও কম খরচে পিক ফ্লো মিটার টেস্ট করেই ফুসফুসের কার্যকারিতা কমেছে কিনা বুঝতে পারা যায়। এর সঙ্গে সামান্য কিছু রক্ত পরীক্ষা, বিশেষ করে রক্তের ইওসিনােফিল বেড়েছে কিনা সেটা দেখা যেতে পারে। ইওসিনােফিল নানা কারণে বাড়ে। হাঁপানিও তার মধ্যে একটি। কিছু ক্ষেত্রে রােগ নির্ণয়ে অসুবিধে হলে যক্ষ্মা আছে কি নেই তা জানবার জন্য বুকের এক্স-রে করার দরকার হতে পাবে।

❏ প্রশ্ন: শীতে, বর্ষায় হাপানির বাড়াবাড়ি হয়?

☛ উত্তর: আর্দ্র আবহাওয়ায় ডার্মাটোফাইটের বাড় বাড়ন্ত। কাজেই যাঁদের হাঁপানি আছে বর্ষাকালে, একটু অসুবিধে হতে পাবে। এছাড়া হাঁপানি রােগীর মাথা শুকননা এবং ঢাকা থাকা জরুরি। নাহলে মাথা ঠাণ্ডা লাগবে। তার প্রভাব পড়বে বুকে।

❏ প্রশ্ন: রােগের বাড়াবাড়ি হলে কী করতে হবে?

☛ উত্তর: বাড়াবাড়ি হলে কী করতে হবে সেটা জানার আগে জানা দরকার বাড়াবাড়ি কীভাবে বুঝতে হবে। এমন অনেক রােগী অহরহ পাই যারা বাড়াবাড়ি হচ্ছে বুঝতে না পারার দরুণ আচমকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মূলে রয়েছে এক জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। শরীর যখন কষ্টের ভার আর বইতে পারে না, কষ্ট বােধ করার অনুভূতিটাকে ভোঁতা করে দেয়। ফলে শরীর যে পরিমাণে খারাপ হতে থাকে রােগীর কষ্ট কিন্তু অনেক সময় সেই পরিমাণে হয় না। ফলে আচমকা এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে রােগী মারাও যেতে পারেন। তাই বাড়াবাড়ি চিনতে সতর্কতা দরকার। হাঁপানি যখন বাড়তে থাকে বুকে চাপ অনুভব করেন রােগী। এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে সাঁই সাঁই আওযাজ বেড়ে যায়। অনেকে এটা ধরতে পারেন না বলে হাঁপানি রােগী মাত্রেই একটা পিক ফ্লো মিটার কিনে নেওয়া উচিত এবং বুকে সামান্য চাপ ভাব বা শাসের আওয়াজ দেখা দিলেই পিক ফ্লো মিটার টেস্ট করে দেখে নেওয়া দরকার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কোন্ জায়গায় রয়েছে। পিক ফ্লো মিটাব যদি বলে শরীর খারাপ হতে চলেছে হয়েছে সঙ্গে সাক্তারের কাছে যেতে হবে। এই অবস্থায় নিজে কিছু করতে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

❏ প্রশ্ন: অনেকের তাে শীতে বা বর্ষায় ঘন ঘন কা বাড়ে। ঘরে নেবুলাইজার মেশিন কিনে নিলে কি সমস্যার সমাধান হবে?

☛ উত্তর: নেবুলাইজ করার অর্থ স্যালবুটামল জাঙ্গীয় ওষুধ অনেক বেশি মাত্রায় সরাসরিশ্বাসনালীতে ঢুকিয়ে দেওয়া। রােগীর যখন আর পাফ টানার ক্ষমতা থাকে না তখনই এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। নেবুলাইজার কীভাবে কোনমাত্রায় দিতে হবে সেটা বাড়ির লােক শিখে নিলে মেশিন কেনা যেতে পারে। রাতবিরেতে কাজে আসবে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়াবাড়ি হলে শুধু নেবুলাইজেশনে কাজ হয় না। কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দিতে হতে পারে। অক্সিজেন তাে অতি অবশ্যই দিতে হয়। অতএব ডাক্তারের উপস্থিতি জরুরি। বেশি বাড়াবাড়ি হলে অবস্থা কিছুটা সামলে নেওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ভাল।

❏ প্রশ্ন: বাড়াবাড়ি হলে ঘুমের ওষুধ দেওয়া যেতে পারে?

☛ উত্তর: একদম নয়। কারণ ঘুমের ওষুধ শ্বাসপ্রশ্বাসের হার, অক্সিজেন পরিবহণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যার ফল মারাত্মক হতে পারে।

❏ প্রশ্ন: একজিমা সেরে গেলে নাকি হাঁপানি হয়?

☛ উত্তর: না, ঠিক তা নয়। হাঁচি, হাঁপানি বা একজিমা তিনটিই একই গােত্রের অসুখ। কোনও পরিবারে এক ভাই বা বােনের হাঁপানি থাকলে অন্য জনের একজিমা থাকতে পারে। আবার কখনও ছােট বয়সে একজিমা ছিল, বড় হয়ে তাঁরই হাঁপানি হল। তার মানে এই নয় যে একটা অসুখ সেরে গেল বলে আরেকটা দেখা দিল।

❏ প্রশ্ন: হাঁপানির সঙ্গে অন্যান্য অসুখও কি আসতে পারে?

☛ উত্তর: হাঁপানির সঙ্গে ঘনঘন সর্দি হওয়া, হাঁচি, মাথা ধরা প্রভৃতি প্রায়ই দেখা যায়। এছাড়াও বেশির ভাগ হাঁপানি রােগী ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম নামের পেটের অসুখে ভােগেন।

❏ প্রশ্ন: যাঁদের হাঁপানি আছে তাঁরা কী কী সাবধানতা মেনে চলবেন?

☛ উত্তর: যদি কারও ঠাণ্ডায় অ্যালার্জি থাকে তাহলে তাঁর ঠাণ্ডা থেকে সাবধান হওয়া প্রয়ােজন। মাথা বেশি সময় ভেজা রাখা চলবে না। শীতকালে মাথা ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। কলা থেকে অধিকাংশ মানুষের এলার্জি হয় বলে হাঁপানি রােগীদের কলা খেতে বারণ করা হয়। অন্যান্য খাবার দাবাতে, যাঁর যেমন অ্যালার্জি আছে তেমন তেমন বাদ দিতে হবে। ধূমপান করার প্রশ্নই নেই, ধারে কাছেও যেন কেউ না করেন। প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ ধূমপান কতখানি ক্ষতিকর তা বলি, গর্ভাবস্থায়ও যদি কেউ পরােক্ষ ধূমপানের শিকার হন, গর্ভস্থ ভ্রূণের হাঁপানি হতে পারে।

Previous Next
No Comments
Add Comment
comment url