জন্ডিস হলে কি করবেন? চিকিৎসা পরামর্শ

জন্ডিস হলে হজম শক্তি কি কমে যায়? এর উত্তর হচ্ছে— জন্ডিসের জন্য হজম শক্তি কমে এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ সময় শরীরে ক্যালরির চাহিদা বাড়ে। ফলে বেশি পরিমাণ প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এবং অল্প পরিমাণে চর্বি জাতীয় খাবারের দরকার হয়। আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন: ডাঃ কে. এন. জালান

❍ প্রশ্ন: পেপে নিয়মিত খেলে লিভার ভাল থাকে?

☛ উত্তর: না, পেপের এরকম গুণাগুণ কিছু নেই।

❍ প্রশ্ন: জন্ডিস হলে যে তবে গলাভাত আর পেপে সেদ্ধ খেতে বলা হয়?

☛ উত্তর: কে বলে খেতে? ডাক্তার? ডাক্তার কোনও দিনও বলবে না।

❍ প্রশ্ন: তবে জন্ডিস হলে কী খাবে?

☛ উত্তর: যার যা খাদ্য সে তাই খাবে। চাইনিজরা চাওমিন খাবে, ইটালিয়ানরা স্প্যাগােটি। ইংরেজ খাবে স্যুপ, টোস্ট। আমাদের দেশেও দক্ষিণ ভারতীয়রা তাঁদের খাবার ইডলি, দোসা খায়। পাঞ্জাবিরা রুটি ডাল। অর্থাৎ জন্ডিসের খাদ্য একমাত্র পেঁপে সেদ্ধ আর গলা ভাত নয়। যা খেতে ইচ্ছে হবে এবং শরীরে সহ্য হবে তাই খাওয়া যেতে পারে।

❍ প্রশ্ন: ক্যালরির প্রয়ােজন বাড়ে কেন?

☛ উত্তর: জন্ডিসে লিভারের কিছু কোষ ক্ষতিগ্রত হয়। তাদের স্থান পূরণ করতে নতুন কোষের জন্ম হয়। কাজেই সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় কারোর যদি ২০০০ ক্যালরির দরকার থাকে। এই অবস্থায় তার থেকে কিছু বেশিই প্রয়ােজন হয়। অর্থাৎ ভালভাবে খাওয়া দাওয়া করতে হবে। 

❍ প্রশ্ন: কিন্তু এই অবস্থায় তো খেতেই ইচ্ছে হয় না। বমি বমি লাগে।

☛ উত্তর: রোগ খুব জটিল না হলে সেটা থাকে প্রথম ৫-৭ দিন। তারপর সুস্থতার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার ইচ্ছে ফিরে আসে। যদি তা সত্ত্বেও বমিভাব থাকে, ওষুধ দেওয়া যায়। কিন্তু জন্ডিস নিয়ে ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়ে গেছে যে রােগী খেতে চাইলে বাড়ির লােক খেতে দেন না। অনেক সময় খাবার পছন্দ হয় না বলে বমি এসে যায়। ফলে জন্ডিস সেরে যাওয়ার পরও স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ফিরে পেতে দেড় দুমাস সময় লেগে যায়। অথচ সহজপাচ্য যে কোনও খাবারই এই সময় দেওয়া যায়। যেমন, সকালে শুকনাে টোস্ট যদি বিস্বাদ লাগে, সামান্য মাখন দিলে খুব ক্ষতি নেই। মাছ, মাংস বা সবজি একদম সেদ্ধ না দিয়ে সামান্য তেল মশলা দিয়ে রান্না করে দেওয়া যায়। তবে ভাজাভুজি বা তেল মশলাদার খাবার একদমই খাওয়া উচিত নয়।

❍ প্রশ্ন: জন্ডিস হলে যে স্বাস্থ্য যে খারাপ হয়ে যায়, সেটা কি রােগের জন্য না খাওয়ার কারণে?

☛ উত্তর: সাধারণ জন্ডিসের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় না খাওয়ার জন্য।

❍ প্রশ্ন: জন্ডিসে নাকি বিশ্রামই ওষুধ?

☛ উত্তর: অল্প স্বল্প চলাফেরা বা কাজকর্ম করা যায়। তবে লােকে তাে সেই মাত্রা রাখতে পারে না, তাই বিশ্রামই বলি আমরা।

❍ প্রশ্ন: তাহলে দেখছি জন্ডিস সম্বন্ধে অনেক ধারণাই ভুল?

☛ উত্তর: হ্যা ভুল। আরও ভুল জন্ডিসকে রােগ ভেবে নেওয়া। জন্ডিস আসলে উপসর্গ। লিভারের বেশ কিছু রােগের ফলে জন্ডিস উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।

❍ প্রশ্ন: যেমন?

☛ উত্তর: মূল হল ভাইরাস হেপাটাইটিস। হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, হেপাটাইটিস ডি এবং হেপাটাইটিস ই। সিরােসিস অফ লিভার, হেপাটিক অ্যামিবিয়য়াসিস, অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস, লিভার ক্যালার, অটোইমিউন হেপাটাইটিস ইত্যাদি রােগেও জন্ডিস উপসর্গ হিসেবে থাকতে পারে।

❍ প্রশ্ন: ভাইরাল হেপাটাইটিস কি প্রতিরােধ করা যায়? হেপাটাইটিস বি ‘র তাে টিকা আছে।

☛ উত্তর: হেপাটাইটিস এ এবং ই সংক্রামিত হয় জলের মাধ্যমে। জল ভাল করে ফুটিয়ে খেলে এদের ঠেকানাে যায়। হেপাটাইসিস বি এবং সি আসে মূলত রক্তের পথ ধরে। শারীরিক সম্পর্কের ফলেও হেপাটাইটিস বি ছড়িয়ে পড়ে। হেপাটাইটিস বি হলে তার সঙ্গে অনেক সময় ডি ও থাকে। আলাদাভাবে হেপাটাইটিস ডির কোনও অস্তিত্ব নেই। হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস বি র টিকা আছে ! সমস্যা বাধায় হেপাটাইটিস সি। যদিও সরকারের নিয়ম আছে প্রতিটি ব্লাড ব্যাঙ্কে বির সঙ্গে সি ভাইরাসেরও পরীক্ষা করা। কিন্তু সি ভাইরাসের জন্য খরচ পড়ে বােতল পিছু প্রায় ১৮০ টাকা (বর্তমান দাম কমবেশি হতে পারে)। কাজেই কটা ব্লাডব্যাঙ্কে এই পরীক্ষা হয় আমার সন্দেহ আছে।

❍ প্রশ্ন: তাহলে তাে খুবই সমস্যা।

☛ উত্তর: সমস্যা তাে বটেই। দুনিয়া জুড়েই হেপাটাইটিস সি নিয়ে সমস্যা। অজস্র কারণে শরীরে রােগ ঢুকে পড়ে। রক্ত দেওয়া তাে অনেক বড় জিনিস। চুল, দাড়ি কাটতে

গিয়ে, বিউটি পার্লারে সাজগােজ করতে গিয়ে বা দাঁত তুলতে গিয়েও শরীরে জীবাণু নিয়ে ফিরতে পারেন। হেপাটাইটিস বি র ক্ষেত্রেও এরকম হতে পারে। তবে টিকা নেওয়া থাকলে সে সমস্যা থাকে না।

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস এ এবং বি টিকা কি সবাইকেই নিতে হবে?

☛ উত্তর: নিয়ে নেওয়াই ভাল। তবে সবক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। তাই অধিকাংশ সময় শুধুমাত্র দুর্বল, অসুস্থ বাচ্চাদের হেপাটাইটিস এ র টিকা দেওয়া হয়। বির টিকা সবার নেওয়া উচিত। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা, হাসপাতাল, নার্সিংহােমে যাঁরা কাজ করেন এবং রােগের কারণে বারবার যাঁদের রক্ত দিতে হয়।

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস এ থেকে ই-সব রােগেই কি উপসর্গ এক?

☛ উত্তর: মােটামুটি এক। রােগ খুব প্রবল ভাবে চেপে ধরলে বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, জ্বর, গা হাত পা ব্যথা, দুর্বলতা, পেট ব্যথা, হলুদ প্রস্রাব, সাদা স্টল, জন্ডিস, চুলকুনি ইত্যাদি থাকে। তাৎক্ষনিক প্রবল জন্ডিস এক অর্থে ভাল, কারণ রােগ ধরা পড়ে চটপট। সমস্যা হয় মেয়াদি হেপাটাইটিসে। ক্লান্তি, খেতে ভাল না লাগা, অল্প জন্ডিস, পেটে অস্বস্তি, ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গকে সাধারণ মানুষ গ্যাস্ট্রাইটিস বলে ধরে নেন। কিন্তু তলে তলে লিভার জখম হতে থাকে।

❍ প্রশ্ন: জখম বলতে? সিরােসিস?

☛ উত্তর: সিরােসিস, ক্যান্সার দুইই হতে পারে।

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস কতদিন ধরে চলতে থাকলে এরকম হতে পারে?

☛ উত্তর: ৮-১০ বছর। এই সমস্যাটা বেশি বাধায় হেপাটাইটিস সি।

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস এ থেকে ই-সব রােগেই তাে একই রকম উপসর্গ বললেন। আবার কখনও উপসর্গ থাকেও না। এদের মধ্যে থেকে হেপাটাইটিস সি তবে চেনা যাবে কীভাবে?

☛ উত্তর: প্রথমে রক্তের লিভার ফাংশন টেস্ট করতে হবে। দেখা যাবে এস জি পি টি বেড়ে গেছে। এস জি পি টির মাত্রা ৭-৮ দিন পরে পরে ওঠানামা করবে। হাত দিয়ে বােঝা যাবে লিভার আকারে বড় হয়েছে। এটাই হেপাটাইটিস সি। এছাড়া কী ধরণের হেপাটাইটিস হয়েছে জানতে হেপাটিক প্রােফাইল করা যেতে পারে।

❍ প্রশ্ন: হেপাটিক প্রােফাইল তাে খুবই খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার।

☛ উত্তর: হ্যা, প্রায় ৫-৭ হাজার টাকা খরচ।

❍ প্রশ্ন: হেপাটিক প্রােফাইল না করে হেপাটাইটিস চেনবার পথ নেই?

☛ উত্তর: চেনা যায় না তা নয়। যেমন, হেপাটাইটিস এ এবং ই সবসময়ই আকস্মিক ভাবে প্রবল রূপে দেখা দেয়। বি দু'ভাবেই হতে পারে। আকস্মিক এবং মেয়াদি। সি কেবল মেয়াদি। মেয়াদি হেপাটাইটিসের বেলায় যদি রক্ত দেওয়ার দুনি সপ্তাহ পরে অল্প জন্ডিস, দুর্বলতা, হাতপা ব্যথা, জ্বর, ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেটা হেপাটাইটিস সি। লিভারের আকার এবং এস জি পি টি-র চরিত্র দেখে মােটামুটি রােগ নির্ণয় হয়ে যায়। হেপাটাইটিস বি-র পরীক্ষা খুব একটা খরচ সাপেক্ষ নয়।

❍ প্রশ্ন: বর্ষাকালে যে জন্ডিসের প্রকোপ বাড়ে সেটা কি হেপাটাইটিস এ এবং ই অন্য?

☛ উত্তর: হ্যা, এই দুটিই মূলত দূষিত জলের মাধ্যমে ছড়ায়।

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস এ এবং ই তাে বােধহয় সেরকম সমস্যা দেয় না?

☛ উত্তর: হ্যা, রােগ নির্ণয় হয় সহজে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাবধানতা এবং সামান্য কিছু ওষুধ পত্রের সাহায্যে সহজেই রােগ সারিয়ে তােলা যায়। তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ এবং ই কখনও মারাত্মক রূপ নেয়। আর গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ই।

❍ প্রশ্ন: মারাত্মক রূপ মানে?

☛ উত্তর: হেপাটিক কোমা, সেখান থেকে শতকরা ২০ ভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়।

❍ প্রশ্ন: কিছু সাবধানতার কথা বলুন যাতে এরকম অবস্থায় পড়তে না হয়।

☛ উত্তর: হেপাটাইটিস-এর প্রতিষেধক নেওয়া এবং জল ভাল করে ফুটিয়ে খাওয়া।

❍ প্রশ্ন: সব ধরনের হেপাটাইটিসেরই কি একই চিকিৎসা?

☛ উত্তর: সব ক্ষেত্রেই মােটামুটি খাওয়া দাওয়ার কিছু সাবধানতা এবং বিশ্রাম নিতে বলা হয়। ভিটামিন এবং বমি কানাের ওষুধ ছাড়া ওষুধের তেমন ভূমিকা নেই। তবে প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে ৩০-৪০ শতাংশ হেপাটাইটিস সি তে আক্রান্ত রােগীকে সিরােসিস অফ লিভাব বা লিভার ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচানাে যায় ইন্টাবফেরন এবং রিবাভেরিনের সাহায্যে। বির ক্ষেত্রে ইন্টারফেরন আর ল্যমিভিট্টরি।

❍ প্রশ্ন:  সে তাে খুবই খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার।

☛ উত্তর: হ্যা, পুরাে চিকিৎসার খরচ প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। (বর্তমান কমবেশি হতে পারে)

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস ‘বি’ কি ‘সি’ এর মতােই মারাত্মক?

☛ উত্তর: রােগ হিসেবে দুইই প্রায় সমান মারাত্মক। তবে হেপাটাইটিস বি-এর প্রতিষেধক আছে, রােগ নির্ণয়ও সহজে করা যায় ফলে সমস্যা এত জটিল হয়ে পড়ে না।

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস বি কি ছোঁয়াচে?

☛ উত্তর: ছোঁয়াচে বলতে রক্ত, থুতু, বীর্য ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। বাড়িতে একজনের যদি রােগটি থাকে বাড়ির শতকরা ৩০ জনের অন্তত রােগটি থাকবে। আমার এক রােগী আছে, তাঁদের বাড়ির ২২ জন সদস্যের মধ্যে ১৮ জনেরই হেপাটাইটিস বি আছে।

❍ প্রশ্ন: হেপাটাইটিস বি হলে তাহলে কী করব?

☛ উত্তর: যথাশীঘ্র সম্ভব চিকিৎসা করে সুস্থ হতে হবে। এবং বাড়ির অন্যদের প্রতিষেধক নিতে হবে। কারণ আগেই বলেছি হেপাটাইটিস বি এবং সি মেয়াদি হয়ে গেলে সিরােসিস অফ লিভার বা লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

❍ প্রশ্ন: বেশি অ্যালকোহল খেলে তাে শুনেছি লিভার সিরােসিস হয়?

☛ উত্তর: হ্যা, অ্যালকোহল থেকেও হয়। হেপাটাইটিস, উইলসন ডিজিজ, অটোইমিউন ডিসঅর্ডার ইত্যাদি রােগের জন্যেও সিরােসিস হতে পারে।

❍ প্রশ্ন: সিরােসিস হলে রােগী বাঁচে?

☛ উত্তর: সেটা রােগের পর্যায়ের ওপর নির্ভব করে। সিরােসিসে লিভার কোষ মরতে থাকে। যদি সেটা খুব ধীরে ধীরে হয় অনেকদিন পর্যন্ত তা নাও জানতে পারা যেতে পারে। কিন্তু অ্যাকটিভ সিরােসিসে দ্রুত রােগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এবং ৭ বছরের মধ্যে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ জন এতে মারা যান।

❍ প্রশ্ন: কী দেখে বােঝা যাবে অ্যাকটিভ লিভার সিরােসিস হয়েছে?

☛ উত্তর: পেটে জল জমবে, পা ফুলে যাবে, খিধে এবং ওজন কমতে থাকবে, হলুদ হয়ে যাবে শরীর, রােগী ভুলও বকতে পারে। এই অবস্থায় সহজেই সংক্রমণ হয় শরীরে। রক্তবমি এবং কালাে পায়খানাও হওয়া সম্ভব।

❍ প্রশ্ন: অ্যাকটিভ লিভার সিরােসিসের কোনও চিকিৎসা নেই?

☛ উত্তর: এক্ষেত্রে লিভার কোষ প্রায় সবই মরে যায়। লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করে একমাত্র বাঁচাননা সম্ভব।

❍ প্রশ্ন: দীর্ঘদিন ধরে আমাশায় ভুগলে নাকি লিভার অসুস্থ হয়ে পড়ে?

☛ উত্তর: আমাশার জীবাণু এস্টামিবা হিস্টালাইটিকা অনেক সময় তার ঘাঁটি সিকাম থেকে রক্তবাহী নালির মাধ্যমে লিভার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ধীরে ধীরে লিভারে ছােট থেকে বড় মাপের এক বা একাধিক ফোঁড়া দেখা দেয়। একে বলে অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস। এই অ্যাবসেস বড় হয়ে ফেটে গেলে খুবই বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

❍ প্রশ্ন: কী করে বােঝা যাবে অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস হয়েছে?

☛ উত্তর: ওপর পেটের ডানদিকে ব্যথা, জ্বর এবং কিছুক্ষেত্রে অল্প জন্ডিসও থাকতে পারে। ওপর পেটের অ্যাস্ট্রাসনােগ্রাফি করে লিভার অ্যাবসেস দেখতে পাওয়া যাবে।

❍ প্রশ্ন: এর চিকিৎসাও কি আমাশার মতাে মেট্রোনিডাজোল দিয়ে হবে?

☛ উত্তর: হা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ আছে গ্রামাঞ্চলে যদি কারাের ডানদিকে পেট ব্যথা এবং জ্বর ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকে তাকে মেট্রোনিডাজোল দিতে হবে।

❍ প্রশ্ন: আর হেপাটিক অ্যামিবিয়ােসিস?

☛ উত্তর: এরও উপসর্গ এবং চিকিৎসা অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেসের মতাে।

❍ প্রশ্ন: লাগাম ছড়া ওষুধ খেলে নাকি লিভারের উপর চাপ পড়ে?

☛ উত্তর: কিছু ওষুধের বিরূপ প্রভাব আছে লিভারের উপর। যেমন টিবি, আথাইটিসের ওষুধ, অবসাদ কমানাের ওষুধ, প্যারাসিটামল ইত্যাদি। তবে ডাক্তারের পরামর্শমত খেলে তেমন অসুবিধে হয়না।

❍ প্রশ্ন: লিভার ঠিক রাখার জন্য তাে নানারকম ওষুধ পাওয়া যায়?

☛ উত্তর: কোনও ওষুধের সাহায্যে লিভার ঠিক রাখা যায় না।

❍ প্রশ্ন: তাহলে লিভারের সুস্থতার জন্য কী করতে হবে?

☛ উত্তর: পুষ্টিকর সহজ পাচ্য খাবার খেতে হবে, মদ্যপান চলবে না, কোষ্ঠবদ্ধতা যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, কথায় কথায় ওষুধ খাওয়া চলবে না, লিভারকে আক্রান্ত করতে পারে এমন অসুখ যেমন, আমাশা থেকে শুরু করে হেপাটাইটিস প্রতিরােধ করার চেষ্টা করতে হবে। সঠিক মাত্রায়।

Previous Next
No Comments
Add Comment
comment url